রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়নি এখনো-গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়নি এখনো-গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী

কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন,সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসা বন্ধ হয়নি।অস্ত্র আশা বন্ধ করতে প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। দেশে বর্তমানে সুষ্ট নির্বাচনে পরিবেশ বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের গুম, খুন, ধর্ষণ, অকথ্য নির্যাতনের যাতাকলে পৃষ্ট ছিল রাউজান। ৫ আগষ্ট ২০২৪ এ ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বিপ্লবের মাধ্যমে রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছিল বলে সবাই ভেবেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সমগ্র বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হলেও রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়নি আজও। ১৭ বছর রাউজানের সাধারন জনগণসহ প্রকৃত ও সাচ্চা বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা দুবির্ষহ জীবন যাপন করেছিলেন।
তিনি গতকাল শুক্রবার নগরীর নিজ বাসভবনে সাংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এনামুল হক এনাম,ইন্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন,মোহাম্মদ ফিরোজ সহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র আমার নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আমার নেত্রী সদ্যপ্রয়াত মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমান এবং আমার অনুসারী হওয়ার কারনে রাউজানে বিএনপি’র প্রকৃত আদর্শ লালনকারী আমার নেতা-কর্মীদের ব্যাপক নির্যাতন, পিটিয়ে এবং গুলি করে খুন, মিথ্যা মামলা, অস্ত্র দিয়ে গ্রেফতার করানো সহ জুমার নামাজের সময় পবিত্র মসজিদ থেকে হাজারো মুসল্লির সামনে টেনে হেঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি’র একজন সাধারন সমর্থক পর্যন্ত রাউজানে থাকতে পারে নি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অমানুষিক নির্যাতনের কারণে। সেই সময় প্রকৃত বিএনপি’র আদর্শ লালনকারী আমার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মা-বাবার দাফন-কাফন-জানাজা পর্যন্ত পড়তে পারেনি। পড়তে পারেনি ঈদের নামাজ, করতে পারেনি শবদাহ, করতে পারেনি শারদীয় দুর্গোৎসব।

তিনি বলেন, সেই দুর্বিষহ সময় রাউজানে বিএনপি দাবিদার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র একটি মহল তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে আতাঁত করে রাউজানে অবস্থান করা সহ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে জীবন যাপন করেছিল। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম শহরে বাধ্য হয়ে অবস্থানকারী আমার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বাসা- বাড়ির ঠিকানা, শ্বশুর বাড়ীর ঠিকানা পর্যন্ত আওয়ামীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী পুলিশকে সরবরাহ করেছিল। চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নুরুল আলম নূরু কে রাতের আঁধারে বাসা থেকে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল আমার কর্মী হেজা হাসেম কে, মসজিদ চত্বরে মুসল্লিদের সামনে হত্যা করা হয়েছিল মুসাকে। আহত করা হয়েছিল অসংখ্য নেতাকর্মী সমর্থককে। সেই অভিশপ্ত সময়ে বিএনপি দাবীদার আওয়ামীলীগের ঐ “বি” টীম বিবৃতি তো দূরে থাক, উল্টো আওয়ামীদের সাথে উল্লাসে মেতে উঠেছিল।

তিনি আরো বলেন,২০১৭ সালে পবিত্র রমজান মাসে ফটিকছড়ির এক জনসভায় ফ্যাসিস্ট নেত্রী শেখ হাসিনা কে নিয়ে দেওয়া আমার অপ্রিয় সত্য ভাষণকে কেন্দ্র করে ইফতারের সময় আমার চট্টগ্রাম শহরস্থ এই “গুডস হিল” বাসভবনে ব্যপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মিথ্যে মামলায় আমি ৬ মাস কারা যন্ত্রণা ভোগ করেছিলাম। মাত্র ২০ মিনিটের শুনানি শেষে আমাকে আত্মপক্ষ সর্মথনের কোন প্রকার সুযোগ না দিয়ে জজ সাহেব মাত্র ৪ জন সাক্ষীর মিথ্যে স্বাক্ষীর ভিত্তিতে মিথ্যে মামালায় আমাকে ৩ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই দিনও মেতে উঠেছিল।

গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, মিথ্যে মামলায় হত্যা করা হয়েছিল আমার শ্রদ্বেয় বড় ভাই, উপমহাদেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান শহীদ মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাউজানে আমার গাড়িতে ৪ বার গুলিবর্ষণ এর পাশাপাশি হামলা করা হয়েছিল। হাজারো জুলুম-নির্যাতন সত্বেও ইসলামী মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তারবাদী আদর্শের রাজনীতি থেকে আমাকে একচুল পরিমাণও দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট এর পর আমার প্রাণের রাউজানের মানুষসহ আমি ভেবেছিলাম আওয়ামী ফ্যসিষ্ট মুক্ত রাউজানে শান্তির সুবাতাস বইবে। কিন্তু আওয়ামী ফ্যাসিস্টের উচ্ছিষ্ট ভোগকারী বিএনপি দাবিদার আওয়ামী লীগের ‘বি” টীম নামে রাউজানবাসীর নিকট সমাধিক পরিচিত ঐ চিহ্নিত গোষ্ঠির নেতৃত্বদানকারী জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী আওয়ামীলীগ আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাউজানে একের পর এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে চলেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী রাউজানে সংগঠিত ১৯ টি হত্যাকান্ডের মধ্যে হত্যাকান্ডের শিকার ১৩ জন-ই আমার অনুসারী। বাকী ৬ জন পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতার কারণে হত্যার শিকার। সর্বশেষ হত্যাকান্ডের শিকার আমার অনুসারী ক্যান্সার রোগী যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার। আমার অনুসারী ১৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের একটাই অপরাধ, তারা শহীদ জিয়া, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্র নায়ক জনাব তারেক রহমানের আর্দশ লালনকারী এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিরোধী। বিগত ১৭বছর ঐ গোষ্টী রাউজানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং নেতা-কর্মীদের গুম, খুন নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে একটা বিবৃতি প্রদান করেছে কিনা প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ রইল।

তিনি রাউজানের শাস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ঐ গোষ্ঠীর সন্তানকে জেলা আইনশৃঙ্কলা কমিটির সদস্য পদ থেকে দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি জানে আলম সিকদার হত্যাকান্ড সহ সকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িততের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। সাথে সাথে ৫ই আগস্টের পর রাউজানে সংগঠিত সকল হত্যাকান্ডের পিছনে যারা জড়িত তাদের খুজে বের করার জন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। প্রিয় সাংবাদিক বৃন্দ, আমার প্রশ্ন রাউজানে আর কত মায়ের বুক খালি করলে শান্ত হবে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা, আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ঐ গোষ্ঠীর?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email