
দেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত লটারি পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবারও পরীক্ষা চালু করা হবে।
সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি তুলে দিয়ে সাধারণ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে এ পরীক্ষা খুবই সহজ ও সাধারণভাবে নেওয়া হবে, যাতে অযথা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, “লটারি কোনো শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হতে পারে না। দীর্ঘদিন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
লটারি পদ্ধতিকে ‘জুয়া খেলার’ সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোচিং বাণিজ্য করতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক করেন তিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থায় ইনহাউস কোচিং চালু করবে।”
নতুন সিদ্ধান্তকে পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পরীক্ষানির্ভর করতে চায় না। তবে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কথা বিবেচনায় রেখে বৃত্তি পরীক্ষা চালু থাকবে। তিনি জানান, বৃত্তি পরীক্ষা ঐচ্ছিক যারা দিতে চাইবে তারা দেবে, আর যারা দিতে চাইবে না তাদের জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়। পরে COVID-19 মহামারির সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতে সাময়িকভাবে এ পদ্ধতি কার্যকর করা হয় এবং তা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছর থেকে দেশের স্কুলগুলোতে আবারও পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হবে।







