
চারদিকে শুধু সাদা ইহরামের ঢেউ, আর বাতাসজুড়ে ভেসে আসছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লির পদচারণায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে মিনার জনপদ। আবেগ, ইবাদত ও আত্মসমর্পণের অনন্য এক পরিবেশে শুরু হচ্ছে এবারের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ইতোমধ্যে মক্কার অদূরে মিনার বিশাল তাঁবু নগরীতে সমবেত হয়েছেন প্রায় ২০ লাখ হাজি।
ধারণা করা হচ্ছে এবারের হজে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ থেকেও ২০১টি ফ্লাইটে হজ ব্যবস্থাপনার সদস্যসহ মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে এসেছেন। এরমধ্যে শনিবার (২৪ মে) পর্যন্ত মক্কায় ১৮ জন ও মদিনায় ৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন।
মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে মিনা। চোখ যতদূর যায়, শুধু সাদা তাঁবুর সারি। চৌচালা ঘরের মতো এসব তাঁবুতেই সময় কাটাচ্ছেন হাজিরা। পুরুষ ও নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক তাঁবুর ব্যবস্থা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে প্রত্যেক হাজির জন্য আলাদা ফোম, বালিশ ও কম্বল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জীবনের বহু প্রতীক্ষিত এই রাত মিনায় কাটিয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। নিজ নিজ তাঁবুতেই নামাজ আদায় ও ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
মূলত, স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ জোহরের নামাজের পূর্বেই মিনায় পৌঁছাতে হয়। মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও রাতযাপন সুন্নত আমল। আজ দিন-রাত মিনায় অবস্থান শেষে আগামীকাল ভোরে হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। আরাফাতের ময়দানেই প্রদান করা হবে হজের খুতবা। এবার হজের খুতবা দেবেন প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ও মসজিদে নববির প্রবীণ খতিব ড. শায়খ আলী ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হুজাইফি।
হজের আরবি খুতবা বাংলাসহ মোট ৩৪টি ভাষায় সম্প্রচার করা হবে। বাংলায় অনুবাদের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান মাক্কী, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার বিখ্যাত উম্মুল ক্বোরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। হজের খুতবা বিভিন্ন ভাষায় সম্প্রচারের বিষয়টি তদারকি করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগ।
৯ জিলহজ বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে হাজিরা যাবেন মুজদালিফায়। সেখানে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন তারা। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে আসবেন হাজিরা। এরপর বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, দমে শোকর বা কুরবানি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ি সম্পন্ন করবেন। পরে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ তিনটি জামারায় ২১টি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ি তওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।







