সরকারের ১০০ দিনের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সরকারের ১০০ দিনের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কাজে অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, “সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন।”

সোমবার (২৫) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, “চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর থেকেই সরকার প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে।”

তিনি বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী চালু এবং প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

কৃষি খাতের বিষয়ে তিনি বলেন,“ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ১০টি বৈঠকে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকিগুলো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তিনি এটিকে সরকারের কার্যকারিতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রেন ও নৌ-সার্ভিস চালু, নারীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কম্পার্টমেন্ট, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, ফ্রিল্যান্সারদের রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গত মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, যা সরকারের প্রতি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলন। এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনটি দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিশু রামিসা হত্যা ও মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন।”

একই সঙ্গে তনু হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে শনাক্ত করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”

মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। তিনি শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে মানবিক নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করেছেন।”

“সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এজন্য অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও রাষ্ট্র কাঠামোতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্টে পুনরায় ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।”

মাহদী আমিন বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’-এই নীতিতে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email