হাটহাজারীর গড়দুয়ারায় গরু ও মুরগির খামার, পরিবেশ ও হালদা নদী দূষণের অভিযোগ

হাটহাজারীর গড়দুয়ারায় গরু ও মুরগির খামার, পরিবেশ ও হালদা নদী দূষণের অভিযোগ

উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের লোহারপুলের পূর্বে জেলে পাড়া সংলগ্ন আজিজিয়া মজিদিয়া সড়কের পার্শ্বে গড়ে উঠা গরু ও মুরগির খামারের বর্জ্যে এলাকার পরিবেশ ও পার্শ্ববর্তী হালদা নদী দূষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে ২৪ জুন (বুধবার) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা কয়েক বছর আগে ওই সড়কের পার্শ্বে গরুর খামার ও মুরগির খামার গড়ে তোলেন। এর মধ্যে গরুর খামারের মালিকরা তাদের মালিকানা জায়গা ছাড়াও জোরপূর্বক সরকারি জায়গা দখল করে ফার্ম গড়ে তোলেন। যার প্রেক্ষিতে ব্যস্ততম ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল করে। ছোট বড় একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে ওই সড়কে। তাদের খামারের বর্জ্য সড়কের পাশে ফেলার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষণ হয়। একইসাথে ওই বর্জ্য মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদায় পড়ে দূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের অনুসরণ করে সেখানে গড়ে উঠা মুরগির ফার্মের বর্জ্যেরও একই চিত্র। এছাড়াও বে-আইনী ভাবে পাকা দেওয়াল নির্মাণ করে সরকারি জায়গা জবরদখলে নিয়েছেন। এলাকার সচেতন মহল প্রতিবাদ

করেও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি না পাওয়ায় অবশেষে নির্বাহী অফিসারের শরনাপন্ন হন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোঃ জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা বলেন, একদিকে পরিবেশ দূষণ অপরদিকে হালদা নদীর দূষণ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার

হলেও নিস্তার পাইনি। জানতে চাইলে গরুর খামারের জায়গার মালিক এ.টি.এম শাহাদাত হিরু (৪০) জানান, গরুর খামারের মালিক তিনি নন। জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা মালিকানা জায়গার উপর। আইনকে শ্রদ্ধা

করেন জানিয়ে বলেন, প্রশাসন পরিমাপ করে যদি সরকারি জায়গায় স্থাপনা পান এবং সরকারের প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই জায়গা ছেড়ে দিবেন। গরুর খামারের মালিক রেজাউল করিম পরিবেশ ও হালদা দূষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গরুর বর্জ্যে (গোবর) পরিবেশ কতটুকু দূষণ হয়। হালদা নদীতে মুরগির খামারের বর্জ্যে মারাত্মক ক্ষতি হলেও গরুর বর্জ্যে তেমন হয়না। ইতিমধ্যে একটি বায়ু গ্যাস প্লানের পরিকল্পনা চলছে। লোনও প্রায় চুড়ান্ত। শিগগির কাজ শুরু হবে। তবে এ অভিযোগ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং অভিযোগকারী জসিম উদ্দিনের ব্যক্তি স্বার্থ হাছিলের চেস্টামাত্র। এ খামার দেখিয়ে উনি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলেন। তখন কি পরিবেশ দূষণ হয়নি। অভিযোগকারীদের অনেকের বসতঘরের ব্যবহৃত এমনকি টয়লেটের সংযোগ পাইপ সরাসরি হালদায়। তদুপরি এ বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে কোন শালিশ বিচার হয়নি। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এ অভিযোগের মূল কারণসহ বিস্তারিত জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। জানতে চাইলে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন, তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email