
টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যাকবলিত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায় বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে আজই তারা মিছিল নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় (সচিবালয়) অভিমুখে লংমার্চ করবেন বলে জানিয়েছেন।
উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শেখ রিফাত জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও রাজধানীসহ বিভিন্ন চত্বরে তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে না। এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের দাবি স্পষ্ট—দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন সূচি প্রকাশ করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও মিছিলের কারণে উত্তরার বিএনএস সেন্টার, আজমপুর, জসিমউদ্দীন ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে, ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রসহ সায়েন্সল্যাব এলাকায় শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য লংমার্চ ও জমায়েত ঠেকাতে কড়া পুলিশি অবস্থান দেখা গেছে। তবে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের বড় কোনো জটলা না করে অভিভাবকদের সাথে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেখা যায়।
আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে কেবল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও, দেশের বাকি সব বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ীই পরীক্ষা চলবে।







