চলন্ত গাড়িতে ইট নিক্ষেপের পর গুলিবর্ষণ, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সাংবাদিক ব্যবসায়ী রনি

চলন্ত গাড়িতে ইট নিক্ষেপের পর গুলিবর্ষণ, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সাংবাদিক ব্যবসায়ী রনি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চলন্ত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে প্রথমে ইট নিক্ষেপ এবং পরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও দৈনিক প্রিয় সময়-এর প্রকাশক-সম্পাদক এস. এম. শহীদুল্লাহ রনি (৪৬)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর চারাবটতলা এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এস. এম. শহীদুল্লাহ রনি একসময় বিজয় টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াহেদরখীল এলাকার প্রবীণ বিএনপি নেতা এস. এম. শফিউল্লাহর ছেলে। বর্তমানে সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইটভাটা ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরী থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাউজানের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন রনি। চারাবটতলা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তার গাড়ির সামনে ইট নিক্ষেপ করে গতিরোধের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি গাড়ির লাইট বন্ধ করে থামালে হামলাকারীরা গাড়ির পেছনের অংশ লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী এস. এম. শহীদুল্লাহ রনি জানান, হামলাকারীরা সম্ভবত ধারণা করেছিল তিনি গাড়ির পেছনের আসনে বসে আছেন। কিন্তু সেদিন তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং চালকের আসনে নিচু হয়ে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। গুলিগুলো গাড়ির এক পাশ ভেদ করে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাউজানের কয়েকজন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে কয়েক দিন আগে রাউজানের ডাবুয়া ইউনিয়নের একটি ইটভাটা দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। তবে বর্তমান গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সেই বিরোধের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাট এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে ব্যবসায়ী আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সর্বশেষ এই হামলার ধরন সেই ঘটনার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email