
রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এতে অংশ নেবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য শুক্রবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন শনিবার। তবে বৈঠকের এজেন্ডা জানানো হয়নি। ধারণা করছি, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে গত এক সপ্তাহে নানা গুঞ্জন থাকলেও বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। দলের মহাসচিব বলেছিলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে। সে হিসাবে আজ রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা। তেমনটি হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যানের ওপরও দায়িত্ব আসতে পারে।
দলীয় সূত্র জানায়, আজকের সভায় রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক যোগ্য প্রার্থীর গুণাবলি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশদ আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও মূল সিদ্ধান্তের ক্ষমতা শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই ন্যস্ত করার সম্ভাবনা প্রবল।
একটি সূত্রের মতে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে। আবার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক দায়িত্ব দলীয় চেয়ারম্যানকেও দেওয়া হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের মতে, রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে এই মুহূর্তে প্রার্থী নির্ধারণের ভার শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে রাখাই দলের জন্য সবচেয়ে বিচক্ষণ পদক্ষেপ হবে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিএনপি অবশ্য এখনই প্রকাশ্যে কোনো নাম বলতে নারাজ। তবে দলীয় নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধারণা, রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে এমন কাউকে দেখা যেতে পারে যিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এবং যার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য কাউকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি বিষয়গুলো দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতি বা প্রবীণ আইনজীবীর নামও আসতে পারে আলোচনায়। আবার রাজনীতির বাইরে সর্বজনশ্রদ্ধেয় কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও চমক হিসাবে নিয়ে আসা হতে পারে, এমন গুঞ্জন রয়েছে।
যদিও রাষ্ট্রপতি হিসাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। তবে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে দলের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও কেউ কেউ মনে করেন। সে হিসাবে ফখরুলকে দলের ‘রাজনীতির কান্ডারি’ হিসাবে মহাসচিব পদে রেখে দিয়ে দল ও সরকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় বলে অনেকে মনে করেন। কারণ অনেকে মনে করেন, সরকারে গিয়ে বিএনপির রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দল ও সরকারের জন্য ভবিষ্যতে ভালো হবে এমন আলোচনাও আছে। এজন্য অনেকেই হাফিজ উদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে জাতীয় সংসদের স্পিকার করার কথা বলছেন। তবে দলের সিনিয়রিটি ও আস্থাভাজন হিসাবে স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতির পদের জন্য সবচেয়ে বড় দাবিদার বলে মনে করা হয়। অনেকের মতে, অসুস্থ না হলে তিনিই নিশ্চিত রাষ্ট্রপতি হতেন। তবে এরপরও প্রবীণ এই নেতাকে সম্মানজনক কোনো পদে দেওয়া উচিত বলে বিএনপির সর্বস্তরে আলোচনা আছে। কেউ কেউ এজন্য বলছেন, তুলনামূলক কম দায়িত্বের সংসদ উপনেতার মতো পদ অন্তত ড. মোশাররফকে দেওয়া উচিত।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার কোনো ‘ঝুঁকি’ নিতে চায় না বিএনপি। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি ঘটনাবলি বিবেচনায় নিয়েই এবার প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে দলটি। বিএনপি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চায়, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষ; আবার বিতর্কেরও ঊর্ধ্বে থাকবেন। দলের দায়িত্বশীল একজন নেতা জানান, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করার ব্যাপারে গত কয়েকদিন ধরে পর্দার আড়ালে কাজ চলছে। এবার তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তিনি জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-সাংবিধানিক বিষয়ে জ্ঞান, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ব্যক্তিগত সততা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় ইস্যুতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান।







