
১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কেটে গিয়েছে ৬০ বছর। কিন্তু দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস ঐতিহ্যের পিছনে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘদিন ধরে তলানিতে ঠেকে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা। গবেষণায় চুরি, দীর্ঘ মেয়াদের সেশনজট সহ প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে ছিলনা কোন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা।
২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারিতে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার শপথ নেয়। তলানিতে ঠেকে যাওয়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবেশের মান উন্নয়নে আবারও শূন্য থেকে সূচনা করতে হয় কাজ। এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ হন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র ৬ মাসেই চমক দেখাতে শুরু করলেন তিনি, দৃশ্যমান পরিবর্তনের ছাপ গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, স্বল্প মেয়াদেই বর্তমান উপাচার্যের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে নানা সমস্যায় জর্জরিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ৫ই আগস্ট পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে নানা কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, যাতায়াত ও আবাসন সমস্যা, সেশন জটসহ একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার নেতৃত্বে শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সেশন জট কমানোর লক্ষ্যে OBE (Outcome-Based Education) কারিকুলাম বাস্তবায়ন, হলে মেধার ভিত্তিতে সিট বন্টন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, অনলাইনে সার্টিফিকেট আবেদনের পোর্টাল চালু, এইকিউএসির অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা বাস্তবায়ন, রিসার্চ সেলকে ঢেলে সাজানো ও গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, ট্রান্সলেশনাল রিসার্চে বিশেষ উদ্যোগ, ইনস্টিটিউশনাল রাঙ্ককিং সেল গঠন, থিসিস, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও শিক্ষাখাতে অগ্রগতির জন্য।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব করার জন্য শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে ১ নং গেট পর্যন্ত নতুন করে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এছাড়াও প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ৮টি বাসের ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য নতুন ৫টি বাস ব্যবস্থাকরা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে টিএসসি ও আবাসন সংকট নিরসনের জন্য ১০ তালাবিশিষ্ট ছাত্রী হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উচ্চতর গবেষণার জন্য স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন এন্ড ইনোভেশন সেন্টার উদ্বোধন এবং শাটল ট্রেনের অবস্থান জানতে শাটল ট্রাকার অ্যাপসহ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এছাড়াও অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স স্থাপন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশান কমিটি গঠন, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরসহ নানা যুগপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে চবি প্রতিনিধি আল ইয়ামিম আফ্রিদি কে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “আমাদেরকে যে নিয়োগ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের এসাইনমেন্ট আছে। সেটা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা। শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে যেন সফলতা আনতে পারে, কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারে সেই ধরনের পঠন-পাঠন ও গবেষণার পরিবেশ যেন সৃষ্টি করতে পারি, সেই ধরনের নির্দেশনা আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ, সব কাজের ফলাফল দৃশ্যমান হবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সকল কৃতকার্যক্রমের একটা বাস্তব ফল দেখা যাবে।”







