,

রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ১২ পুলিশ, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১

রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ১২ পুলিশ, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, পরে দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো জায়গা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান থানার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২) ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২)-এর নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করা হয় বলে পুলিশ জানতে পারে।এ ঘটনায় তথ্য যাচাই করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে রাউজান থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতর থেকে জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মো. বাঁচা (৪৫)সহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।

পুলিশ জানায়, আত্মরক্ষার্থে তারা পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় গুলি বিনিময়ে এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন।

অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো জায়গা থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি ও দুটি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাউজানের কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।