,

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই মূল্যায়িত হবে – লায়ন হেলাল

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই মূল্যায়িত হবে - লায়ন হেলাল

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জননেতা লায়ন হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হাইব্রিড বা সুবিধাবাদী নেতৃত্ব নয়, বরং দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন” দুঃসময়ে যারা তারেক রহমানের পাশে ছিলেন, তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মী রাজপথে, মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারাই মূল্যায়িত হবেন। তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি এটাই। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থন বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ, নির্বাচনী কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সাংগঠনিক কর্মকা- আরও বেগবান করার লক্ষ্যে গতকাল ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনোয়ারা কালাবিবিরদীঘি এলাকায় ডায়মন্ড পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে দলীয় সমর্থন প্রদানে প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটি আনোয়ারা উপজেলার উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মাষ্টার মোহাম্মদ রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, বিগত ১৭-১৮ বছর ধরে দেশে কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সে সময়ের নির্বাচনব্যবস্থা ছিল ‘আমি-তুমি-ডামি’ মার্কা নির্বাচন। প্রতীক ছিল শুধু নৌকা। নৌকা প্রতীকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনিই জনপ্রতিনিধি বনে গেছেন। আমরা বাংলাদেশে আর এ ধরনের নির্বাচন দেখতে চাই না। তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি নির্বাচন চায়, যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির নজির সৃষ্টি করতে চায়। “তারেক রহমান একটি শক্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থা চান। স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে হবে”Ñবলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোনো ধরনের চাপ বা একতরফা সিদ্ধান্ত থাকবে না। স্থানীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কাউকে প্রার্থী হিসেবে সিলেকশন করে দেওয়া হবে না। স্থানীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং জনগণ মিলে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবেন। যিনি প্রার্থী হবেন, তার সঙ্গে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গভীর সম্পর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং প্রতিকূল সময়ে দলের পাশে থেকেছেনÑতাদের মধ্য থেকে যাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা ও যোগ্যতা রয়েছে এবং যারা বিজয়ী হওয়ার সামর্থ্য রাখেন, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।
লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের গুপ্ত ও হাইব্রিড নেতাকর্মী দরকার নেই। এখন অনেকেই বিএনপির নেতাকর্মী সেজে মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তারাই বিএনপির পরীক্ষিত শক্তি। তারা তারেক রহমানের অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের ত্যাগের কারণেই আজ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়; এটি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার রাজনীতি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেÑএমন প্রার্থীকে সামনে আনতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীকে শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই হবে না, সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। জনগণের সঙ্গে যার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, সুখে-দুঃখে যিনি মানুষের পাশে ছিলেন এবং এলাকার মানুষের সমস্যা বোঝেনÑতাকেই আমরা সামনে দেখতে চাই। লায়ন হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বকে সামনে আনতে চায়। এটি একটি কঠিন নির্বাচন হবে। তাই এখন থেকেই আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। জনগণকে তাদের হারানো ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। জনগণের রায়কে সম্মান করেই আমাদের রাজনৈতিক বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যারা বিএনপিকে হৃদয়ে ধারণ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এবং বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও উন্নয়ন-ভাবনায় বিশ্বাস করেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই আগামী নির্বাচনে বিএনপির সাফল্যের প্রধান শক্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্য মাস্টার রফিক আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক নির্দেশনা মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সভায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাগির আহমেদ, দিল মুহাম্মদ মঞ্জু, এম মুনছুর উদ্দিনসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।