
চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট দুই শিল্পোদ্যোক্তা সিডিএ সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানকে ঘিরে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে তারা রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজ করছে।৫ আগষ্টের পর এমএ সালাম পালিয়ে থাকলওে মজিবুর রহমান পুলিশ পাহারায় চন্দনপুরা বাসায় এবং বায়েজিদে অফিসে নিয়মিত অফিস করে
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলার আসামি।কিন্তু পুলিশ পাহারায় ব্যাবসা বাণিজ্য করেন স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান।শ্রমিক অসন্তোষে ইন্ধনের অভিযোগে গোয়েন্দা নজরে এসেছে তার নাম।চট্টগ্রামে ইসকন ও ছাত্রলীগ,যুবলীগের অন্দোলনে অর্থদাতা হিসেবে তার নাম এসেছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অসস্থায় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তার করে।২০২২ সালের ৪ জুন সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায়
মুজিবুর রহমানের ব্যবসায়িক পরিচয়ের সঙ্গে আলোচিত আরেকটি ঘটনা বহু মানুষ হতাহত হন। ঐ ক্ষমতার জোরে ঐ মামলা থেকেও পার পেয়ে যান তিনি।
একই ঘটনায় গ্রুপের রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আল-রাজী কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডভর্তি কনটেইনারও ছিল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে ঢাকায় দায়ের করা একটি মামলায় আসামি করা হয়।মামলার বাদী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ আসিফ নামের এক শিক্ষার্থী। মামলায় মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীসহ বাঁশখালীর আরও ২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল। বাদী নিজেও গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ করেন।এ ছাড়াও চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ সামনে আসার পর তুমুল আলোচনায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। স্মার্ট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এই ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সাবেক এই এমপির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে।
অন্যদিকে এম এ সালাম সিডিএ চেয়ারম্যান হয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সিডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুচ ছালাম। এই ১০ বছরে তিনি ছোট বড় মিলে প্রায় ৩০টি প্রকল্প গ্রহণ করেন।এ সব প্রকল্পের ‘অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করে মন্ত্রণালয় সত্যতা পাই।দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলাও হয়।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার, মুরাদপুর ফ্লাইওভার, কদমতলী ফ্লাইওভার, জলাবদ্ধতা প্রকল্প, কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড প্রকল্প, বাকলিয়া এক্সেস রোড, চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড, সিডিএ স্কয়ার, কল্পতরুপ্রকল্প, সল্টগোলা ডরমেটরি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান, বায়েজিদ লিংক রোড প্রকল্প থেকে তিনি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেন।
সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সদস্যদের জন্য পোশাক (ইউনিফর্ম) তৈরির অভিযোগে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগনেতা এম এ ছালামের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
২ জুন বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর মোহরা শিল্পনগর এলাকায় অবস্থিত ‘ওয়েল গ্রুপ’র কারখানা ‘ওয়েল ফেব্রিক্স’ এ এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তারিকুল ইসলামসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
ছালামের মেয়াদে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া নানা প্রকল্প, বিশেষ করে ফ্লাইওভার প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সর্বত্র প্রশ্ন উঠে। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।সিডিএ চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিদায়ের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে । অনেকে ছালাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনেও জমা পড়েছে কয়েকটি অভিযোগ।চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে নয়-ছয় করে তিনি।এই মেগা প্রকল্পের কোনো সুফল জনগণ পাইনি।অভিযোগ ছিল, সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর করার আগে প্রকল্পটি নিয়ে অনেক নয়-ছয় করা হয় ছালাম।
২০১৭ সালে পুরানো বাজার সরিয়ে কাজির দেউড়ি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ও কাঁচাবাজার নির্মাণ করে সিডিএ। কমপ্লেক্সটি নির্মাণের পর আবদুচ ছালাম, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকে অভিযোগপত্র জমা দেন কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজারের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।এতে দোকান বরাদ্দের নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, চুক্তির তোয়াক্কা না করে টাকার বিনিময়ে এলোমেলো দোকান বরাদ্দ ও কাঁচাবাজারের সাবস্টেশনের জায়গায় দোকান বরাদ্দ দিয়ে ওয়েলফুডের শো-রুম স্থাপনসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
সিডিএতে নিজের মেয়াদের শেষদিকে এসে ১০ কোটি টাকা মূল্যের প্লট পাঁচ অনুচরের হাতে তুলে দেন আবদুচ ছালাম। শুধু তাই নয়, পুরো মেয়াদেই তাঁর বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল নানা মহলের।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিডিএ’র কল্পলোক ও অনন্যা আবাসিক এলাকার পাঁচটি প্লট বরাদ্দ দেন আবদুচ ছালাম। তখন প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় ছালামের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সিডিএ’র দুই বোর্ড সদস্য কেবিএম শাহজাহান ও জসিম উদ্দিন শাহকে। এছাড়া আবদুচ ছালামের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) তারেক গণির মা জাকিয়া বেগম, চেয়ারম্যানের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ওয়েল গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা সেতু বড়ুয়া ও সাংবাদিক সহ এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে তিনটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে গাফিলতির কারণে ২০১২ সালের ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়ে ১৫ জন নিহত হন। আহত হন অনেকে। সেসময় বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণের পদ্ধতিগত ত্রুটি, ঠিকাদারের গাফিলতি, সঠিক তদারকিতে দুর্বলতা ও উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়াতেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নগরের গোলপাহাড় মোড়ে পাহাড় কেটে নির্মিত হয়েছে ইমপালসের একটি মার্কেট। সিডিএর অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা বা অন্যত্র বদলি করার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।দীর্ঘ ১০ বছর সিডিএর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময় তাঁর নেওয়া বিভিন্ন ফ্লাইওভার ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা এবং কালক্ষেপণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আনে বিভিন্ন মহল।৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে সারামও পালিয়ে আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করতে অর্থ দিয়ে সব রকমের সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এর জন্য ইন্দন দিচ্ছে সে। তার ভাই নজরুল বিজিএমইএর সহ সভাপতি ছিলেন।







