গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অবিসংবাদিত নেত্রী, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতীক, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শুক্রবার (২রা জানুয়ারি) অদ্য বাদ আছর নগরীর ঐতিহ্যবাহী জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও একই দিনে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বাদ জুমা মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক জনাব এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব জনাব নাজিমুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, মনজুরুল আলম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সদস্য ইকবাল চৌধুরী, এম এ হান্নান, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইসকান্দর মির্জা, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মো: মহসিন, খোরশেদ আলম, মো: সালাউদ্দিন, সৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম, মশিউর আলম স্বপন, জাফর আহমেদ, গাজী আইয়ুব, এম এ সবুর, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর, মো: আশরাফুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের জমির উদ্দিন নাহিদ, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম তুহিন, তাঁতী দলের আহ্বায়ক সেলিম হাফেজ, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ এবং ওলামা দলের সদস্য মো: জয়নালসহ মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবার ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি আজীবন দেশের গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয় এবং সেই সময় প্রয়োজনীয় ও যথাযথ চিকিৎসা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের অভিমত, কারাবন্দিত্বকালে চিকিৎসার অভাব ও অবহেলার কারণে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে, যা ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। এটি ছিল তার প্রতি অমানবিক আচরণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চরম অসুস্থতা, কারাবরণ ও সীমাহীন নিপীড়নের মধ্যেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি। তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে আজীবন আপসহীন থেকেছেন। তার ত্যাগ, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে।
নেতাকর্মীরা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তার আদর্শ ও সংগ্রামের পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামীতেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
শেষে মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা, শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।