রাউজানে গুলিতে নিহত যুবদলনেতা বাড়িতে শোকের মাতম, দফায় দফায় বিক্ষোভ, রাতে দাফন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাউজানে গুলিতে নিহত যুবদলনেতা বাড়িতে শোকের মাতম, দফায় দফায় বিক্ষোভ, রাতে দাফন

গতকাল সোমবার গুলিতে নিহত যুবদলনেতা জানে আলমের বাড়িতে শোকের মাতম, দফায় দফায় বিক্ষোভ, বাদে মাগরিব নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়।
চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেলে করে এসে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তিনজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের আজগর আলী সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবদল নেতার নাম মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (৪৮)। তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। আজগর আলী সিকদার বাড়ির হামদু মিয়ার সন্তান। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গিয়াস কাদের চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী।
যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতা কর্মীরা রাঙ্গামাটি মহাসড়ক ও কাপ্তাই সড়কের টাইয়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ফেটে পড়েন। পুলিশ নেতা কর্মীদের শান্ত করে অবরোধ তুলে নেন।
আজও ৬ জানুয়ারি উপজেলার রাউজান সদরের রাঙ্গামাটি সড়ক ও দক্ষিণ রাউজানের কাপ্তাই সড়কে জানে আলমের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল চলছে।
জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন পরিকল্পিত ভাবে যুবদলের পরিক্ষিত সৈনিকদের হত্যা করছে, হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে যেকোন কিছু মূল্যে। রাউজান সন্ত্রাসমুক্ত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা যুবদল করবে।
ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দীপ্তেষ রায় জানান, নিহতের বুকে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা জানে আলমকে উদ্ধার চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১০ জন এবং কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৫ জন খুন হন। বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয় শতাধিকবার। ৩৫০ জনের বেশি মানুষ এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল যোগে তিনজন মুখোশধারী এসে গুলি করে পালিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ জানান জানে আলম সিকদার দীর্ঘ ১৭বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান ও রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
এক বিবৃতিতে বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন,
“রাউজান যুবদলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত এবং আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা জানে আলম শিকদার আওয়ামী লীগের “বি” টিম খ্যাত বিএনপি দাবিদার ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের কর্তৃক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মনোনয়ন প্রাপ্তির ধুয়ো তুলে রাউজানে প্রবেশ করে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে প্রকৃত ও সাচ্চা এবং ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মী- সমর্থকদের একের পর এক হত্যা করছে ঐ ব্যক্তি। ৫ আগস্ট পরবর্তী রাউজানে সংগঠিত ১৭ টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১ জনই আমার অনুসারী । বাকি ৬ জন পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে। আর কত মায়ের বুক খালি করলে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ঐ ব্যক্তি শান্ত হবে রাউজানবাসী জানতে চায়। আমি বারবার ত্যাগ স্বীকার করে এবং ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিয়ে আমার নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও আগামী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান এর আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতি অবিচল ছিলাম, আছি এবং আমৃত্যু থাকব। যুবদলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা জানে আলম সিকদার এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর হস্তক্ষেপের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email