চবিতে নিয়োগ অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম ছাত্রদলের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চবিতে নিয়োগ অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম ছাত্রদলের

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতিনীতি উপেক্ষা করে একের পর এক দলীয়করণ ও স্বজন প্রীতিকেই গুরুত্ব দিয়ে চলমান রাখা হয়েছে সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি। কোন বাধাই যেন মানতে চায় না বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন, গত বছর ২০২৫ এর ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চলমান সকল ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। তারপরও এবারের ৫৬৫ তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১১৩ জনকে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি এবং নীতিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতি পেয়েছেন বিশের অধিক। এবং এই সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রাপ্তদের অধিকাংশই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

এরূপ নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজন প্রীতির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়টির নানান ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে তবে নীরব ভূমিকা পালন করছে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংসদের সদস্যরা। ধারাবাহিক এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ১৪ জানুয়ারি শাখা ছাত্রদল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী ও মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ মিছিল শেষে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্লেকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানায়। এখনও অব্দি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন এবং তাদের বাধার মুখে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। বিক্ষোভরত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ এবং নীতি বহির্ভূত নিয়োগ তদন্ত সাপেক্ষে বাতিল করা। সর্বশেষ, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নিয়োগ প্রাপ্তদের তালিকা, তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও তাদের ফলাফল প্রকাশ সহ বিতর্কিত সকল নিয়োগ বাতিল করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রদল। অন্যথায় আগামী রবিবার থেকে কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সিন্ডিকেটে ১০০-এর অধিক নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email