চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করতো। কিন্তু বিএনপি কখনোই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সমান অধিকার ভোগ করবে এটাই বিএনপির নীতি। বিএনপি বিশ্বাস করে দল-মত, ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আমরা সম্মান করি। বিএনপি সকল ধর্মের মানুষ তথা সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায়। সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রগঠনে বিএনপি ৩১ দফা রুপরেখা দিয়েছে। সেখানে সব ধর্ম, বর্ণ গোত্রের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে রেইনবো ন্যাশনের কথা বলা হয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে ৩১দফা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে সত্যিকারের একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা সম্ভব।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নগরীর দেওয়ানজিপুকুর পাড় চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গ মিলনায়তনে সনাতনী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, মঠ ও মন্দিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটি আপনি জোর করে নিতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে নির্বাচন গুলোতে জোর করে ভোট নিতে গিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সাধারণ সনাতনীরাও গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এখন সময় বদলে গেছে। আপনার আমানত ভোটটি দিতে আপনি অবশ্যই ভোট কেন্দ্রে যাবেন। যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দিবেন।
আবু সুফিয়ান বলেন, অনেকে এখনো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। যারা বুঝতে পেরেছে নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটপাট করতে চায়। কারণ বর্তমানে তারা সরকারের ভেতর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চিফ কোঅর্ডিনেটর ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে হিন্দুদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। আমরা বিভিন্ন পূজায় উপহার দিতে পর্যন্ত যেতে পারেনি। দেখা গিয়েছে তারা বাঁধা দিয়েছে। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করে। ধর্মীয় বিভেদ করে না, কোনো বিভাজন করে না। আসুন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়। সামনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, শান্তির পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অরবিন্দু পাল অরুণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন হাজারী গলি জয়মাতা কালী মন্দিরের রতন আচার্য্য।
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দিপক কুমার পালিত, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, কার্যকরি সভাপতি আয়ান শর্মা, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ-চট্টগ্রামের প্রতিনিধি রতন মজুমদার বেসরকারী কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, সনাতন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সীতাকুন্ড স্রাইন কমিটির সদস্য অশোক কুমার চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গের সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শিপুল দে, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি এসকে নাথ শ্যামল, জাগো হিন্দু পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক টিটু শীল, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি মাস্টার রণজিৎ কুমার দাশ,চট্টেশ্বরী কালী মন্দিরের সেবায়েত রাজেশ চক্রবর্তী, দেবু চক্রবর্তী, কোতোয়ালি থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লিটন শীল, সদরঘাট থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজীব নন্দী বাবু, চকবাজার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন বল, হিন্দু সংহতির সোমা রাণী দাশ, প্রণাম ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা রোমারিও সূত্রধর। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু, নুরুল আজিম হিরু, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি লায়ন তপন কান্তি দাশ, সহ সভাপতি প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিশংকর আচার্য্য, অ্যাডভোকেট সলিল গুহ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ মহানগর শাখার সভাপতি লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, প্রকৌশলী সনজিৎ বৈদ্য, সাধারণ সম্পাদক ডা. রাজীব বিশ্বাস, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালিত, সহ সাধারণ সম্পাদক সুভাষ দাশ, সদস্য অনুপ রক্ষিত, পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের সিনিয়র সহ সভাপতি বাবলু চৌধুরী, উপন্যাসিক দুলাল মল্লিক, দেওয়ানহাট কালী মন্দিরের সভাপতি ধীরেন্দ্র দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদেও মহিলা সম্পাদিক মৌসুমী চৌধুরী, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সহ মহিলা সম্পাদিকা দিপতি দাশ, এনায়েতবাজার মহিলা সংঘ পূজা কমিটির সভাপতি মীনা চেওধুরী, রীপা চৌধুরী,বৃন্দাবন আখড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক অনিন্দ্য চৌধুরী, ত্রিনয়নী পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুন্নী চৌধুরী, সাংবাদিক বিশু রায় চৌধুরী, রাজীব মজুমদার,মহানগর গীতা শিক্সা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুবেল দাশ, ছোটন সরকার, নিখিল দে, সদরঘাট কালী বাড়ির রতন কান্তি দাশ, শুভদ্বিপ দে, ত’র্য, শুভ দাশ গুপ্ত, দেবাশীষ সেন, সুব্রত ভৌমিক,পলাশ সেন, সুজন কুমার ভট্টাচার্য্য,বিজয় চৌধুরী, অপু দাশ, ডা. নেহেরু লাল ধর, এড সুব্রত শীল রাজু, এড. শ্যামল চৌধুরী, বিজন পাল, নিত্য দেব প্রমুখ।