বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল। সব আইন পরিবর্তন করা যাবে না, কিন্তু সহজীকরণ করা যাবে। বাংলাদেশের তরুণেরা অনেকেই বিদেশে পড়ালেখা করতে যেতে চায়, কিন্তু ভিসা ফিসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে পারে না। এজন্য বিএনপির স্টুডেন্ট লোন দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে ‘পলিসি টকে’ যোগ দিয়ে এসব কথা জানান তিনি।এদিন সকাল ১০টা নাগাদ চট্টগ্রামের 'রেডিসন ব্লু' হোটেলে শুরু হয় এ মতবিনিময়।
অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যদি পুরো সিস্টেম ডিজিটালাইজ করা হয় এবং যেখানে যেখানে ত্রুটি আছে সেগুলো সংশোধন করা হয়, তাহলে মানুষ ঘরে বসেই এনআইডি নিতে পারবে। ডিজিটালাইজেশন করলে দুর্নীতি এবং সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
বর্তমান এনআইডি প্রক্রিয়ায় অনেক নাগরিককে ঝামেলা পোহাতে হয়। আমাদের সিস্টেমে যেখানে যেখানে ত্রুটি আছে সেগুলো ঠিক করতে হবে। নাগরিকরা যদি নিজেদের কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই কাজটি করতে পারে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে। এটি শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, আমাদের সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।তিনি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে এনআইডি, পাসপোর্ট ও অন্যান্য সার্টিফিকেট দ্রুত এবং ঝামেলামুক্তভাবে প্রাপ্ত হওয়া উচিত। অনেক দেশে ইতোমধ্যেই ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে এবং বাংলাদেশেও তা করা সম্ভব।
পাহাড়ের এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের অধিকার সমান। আপনি সমতলের না পাহাড়ের-কোনো পার্থক্য নেই।যোগ্যতার ভিত্তিতে সকল সুযোগ পাওয়া উচিত। শিক্ষা, চাকরি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধায় প্রত্যেক নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৪ এর আন্দোলন শুরু হওয়ার সময় আমরা কোটা প্রথা বাতিল করেছি। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন: ডিজেবল বা ভিন্ন ধরনের মানুষদের জন্য সংক্ষিপ্ত কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ক্ষেত্রে সব সুযোগ-সুবিধা মেধার ভিত্তিতে পাওয়া উচিত।এটি সমতল ও পাহাড়-সব যুবকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার রয়েছে । এতে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির মজুতও বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোতে বিশেষ নজর দিতে চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ৫-১০ বছরে কী ধরনের ভোকেশনাল কাজ বৈশ্বিকভাবে গুরুত্ব পাবে, সেগুলো খুঁজে বের করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিখিয়ে যদি বিদেশে কাজে পাঠানো হয় তাহলে বিশেষ মানের শ্রমশক্তি রফতানি করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। চাঁদাবাজি সমস্যা নানাভাবে সমাজে ছড়িয়ে রয়েছে। একটা সরকারের অনেক বার্তা অনেক কিছুকেই সমাধান করতে পারে। সরকারের বার্তা যদি থাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তাহলে এই অপরাধ অনেকখানিই কমে যাবে।
এসময় স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজুয়াল সংযোগে আনতে চান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যনা বলেন, ‘যার মাধ্যমে দেশের নানাপ্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান দেয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। একইভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণদের জন্যও আধুনিক ডিভাইস সরবরাহ করা হবে।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সামুদ্রিক অর্থনীতির স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি একটি বিশাল সম্ভাবনা। এটি শুধুমাত্র মাছ ধরার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিপ ব্রেকিং, শিপ বিল্ডিং, ট্রেড এবং অন্যান্য সামুদ্রিক উদ্যোগকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মতো অঞ্চলে শিপ ব্রেকিং ও শিপ বিল্ডিং শিল্প রয়েছে। এই শিল্পগুলোকে ধীরে ধীরে উন্নত করা এবং সংগঠিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। ট্রেড এবং বিজনেস বৃদ্ধি করলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন খাতে ছোট-ছোট এন্টারপ্রেনার ও উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। এতে অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়বে এবং যুব সমাজের অংশগ্রহণ জোরদার হবে। বাংলাদেশের দীর্ঘ সমুদ্রসীমা এই খাতে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি নিজেকে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাইয়া’ সম্বোধন করার অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের প্রতি। ঘন ঘন কাশির বিষয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসানের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘একটু হালকা জ্বর আছে’।