বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের দায়ের করা রীট পিটিশনের আদেশ দিয়েছে মহামান্য হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিগত ১৮ জানুয়ারী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থীতা বাতিল করে দেয়া রায় স্থগিত করে প্রার্থীতা বহাল রাখেন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেয়া বিগত ১৮ জানুয়ারীর রায় কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা সেই মর্মে রুল জারী করে আদেশ প্রদান করেন। এ আদেশের পর বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর চট্টগ্রাম -২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা নেই।
সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ধানের শীষ প্রতিক বরাদ্দ দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আদেশে। এর আগে গত মঙ্গলবার ও রোববার রীটের দুই দফা দফা শুনানি হয়। মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি আসিফ হাসানের দ্বৈত ব্যাঞ্চে শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য তারিখ ধার্য রেখেছিলেন আদালত।
আদালতে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী আহসানুল করিম,ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যরিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
আদালত সুত্র জানিয়েছে, গত ১৮ জানুয়ারী প্রিমিয়ার লিজিং লিমিটেডের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলায় বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের নেয়া পূর্বের স্থিতিআদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছিলেন চেম্বার জজ। স্থিতিআদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্টে করার কারণে ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। যদিও একই দিন জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের করা আপিল প্রথম দফায় নামঞ্জুর করে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর প্রার্থীতা বহাল রেখেছিল নির্বাচন কমিশন।
প্রিমিয়ার লিজিং এন্ড ফাইনান্স লিমিটেডের আইনজীবী মলয় কুমার রায় জানান, সরওয়ার আলমগীর ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতার কারণে ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হয়। তিনি ঋন পূনঃতফসিলের জন্য ২০ লাখ টাকা জমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে স্থিতিআদেশ নেবার কারণে পুনঃতফসিল প্রক্রিয়া স্থিমিত হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি প্রিমিয়ার লিজিং এর চাহিত অর্থ পরিশোধ করেছেন। ফলে বোর্ড মিটিংয়ের অনুমোদনক্রমে প্রিমিয়ার লিজিং এর পক্ষ থেকে পুর্বের পিটিশনটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে এনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের মালিকানাধীন ঋন নিয়মিত এবং সিআইবি স্টাটাস হালনাগাদ রয়েছে।
অপরদিকে এর আগে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিনের দায়ের করা আরও দুটি সিভিল পিটিশন নো অর্ডার দিয় রিলিজ করেছেন চেম্বার জজ।