শরীরচর্চা, অতিরিক্ত ঘাম বা তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করা যায়। সংগৃহীত ছবি
শরীর সুস্থ রাখতে পরিমিত ও বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শরীরচর্চা, অতিরিক্ত ঘাম বা তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের সময় প্রতি ১৫ মিনিটে ১৫০–৩০০ মিলিলিটার এবং ব্যায়াম শেষে প্রায় ৪০০–৫০০ মিলিলিটার পানি পান করা উচিত।
পানি পানের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধীরে ধীরে, ছোট ছোট চুমুকে পান করা। একবারে অনেকটা পানি খেলে শরীর তা ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না, ফলে পানির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু পানি পান করলেই যথেষ্ট নয়—কীভাবে পানি পান করা হচ্ছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষ তাড়াহুড়া করে দাঁড়িয়ে পানি পান করেন, যা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য কিছুটা ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে জয়েন্টে অস্বস্তি বা ব্যথার প্রবণতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি, শরীরের ভেতরের ছাঁকনি ব্যবস্থা (বিশেষ করে কিডনি ও মূত্রতন্ত্র) ঠিকভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে, ফলে টক্সিন জমার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের গড়ে অন্তত দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকলে অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা হয় না বা মাঝপথে থেমে যেতে হয়, যার ফলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বস্তিভাব দেখা দিতে পারে।
পানি কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বসে পানি পান করলে তা ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করে এবং কিডনি সহজে পরিশোধনের কাজ করতে পারে। বিপরীতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে হঠাৎ করে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বুকের পেশিতেও চাপ সৃষ্টি হয়, যা হৃদ্যন্ত্রের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
এ ছাড়া দ্রুত ও অমনোযোগীভাবে পানি পান করলে স্নায়ুতন্ত্রেও চাপ পড়ে, যার ফলে মানসিক অস্থিরতা বা উদ্বেগ বাড়তে পারে।
বসে পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং অ্যাসিডিটি বা বদহজমের ঝুঁকি কমে। একইসঙ্গে খুব ঠান্ডা পানি একবারে না খাওয়াই ভালো, এতে গলা ও পাকস্থলীতে সমস্যা হতে পারে। খাবার খাওয়ার ঠিক আগে বা একেবারে খাবারের মাঝখানে বেশি পানি না খাওয়াই উত্তম। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে শরীর ডিটক্স হতে সাহায্য করে।
সবসময় চেষ্টা করুন বসে, ধীরে, এবং ছোট চুমুকে পানি পান করতে। এই সহজ অভ্যাসগুলো মেনে চললে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় থাকবে, হজম ভালো হবে এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য থাকবে সুস্থ ও সতেজ।