বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনে আপনারা রাজপথে থেকে যারা গুম-খুন ও নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, পরিবার লাঞ্চনার শিকার হয়েছে, পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন, জেলখানায় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। বাড়িতে থাকতে পারেননি, বেড়ীবাঁধে থেকেছেন, ধানক্ষেতে থেকেছেন। ৬০লক্ষ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে। এই আন্দোলন কিসের জন্য ছিল? এই আন্দোলন ছিল মানুষের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। এই আন্দোলন শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারী রাতে। যখন ভোট গণনা শেষ হবে এবং বিজয়ের সংবাদ বাংলাদেশ ও বিশ্বের কাছে যাবে। তখনই বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে শপথ আমরা গ্রহণ করেছি, তা পূরণের দিন শুরু হবে মাত্র। তাই চোখ কান খোলা রাখতে হবে। এখন থেকে নির্বাচনের দিন রাত্রে পর্যন্ত ভোটের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত সকলকে জাগ্রত সৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকালে নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘীর মাঠে চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের সমর্থনে গণমিছিল পূর্ব জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের সাথে যারা নির্বাচন করছেন তারা দৃশ্যমান শক্তি নয়। তাদের দেখা যায়না। তারা অন্যভাবে ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করছে। শুনতে পাচ্ছেননা? সিল বানাচ্ছে, ব্যালট পেপার, বোরকা, ন্যাশনাল আইডি কার্ড, বিকাশ- এটা করতে দেওয়া যাবেনা। সবাই চোখ কান খোলা রাখবেন। যেখানে সন্দেহ, যেখানে ভোগাস ভোট দিতে যাবে, সেখানে বাধা দিতে হবে। তারা কিন্তু ভোগাস ভোট দেওয়ার তালে আছে। তারা জানে- জনগণের আস্থা নিয়ে তারা রাজনীতি করতে পারবেনা। তারা ভোগাস ভোট দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। তাই সকলে মিলে এখন থেকে পাহারা দিতে হবে। পাহারা দিতে হবে- ভোটাররা যেন ঠিকমতো ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। কোন বাইরের লোক সেখানে গিয়ে যাতে ভোগাস ভোট দিতে না পারে। চোখকান খোলা রাখতে হবে যেন অন্যকোন উপায়ে তারা ভোটের ফলাফল চুরি করে নিতে না পারে। এটা সঠিকভাবে পাহারা দিতে হবে। নির্বাচনে কোন প্রকার চুরির সুযোগ দেওয়া যাবেনা।
আমির খসরু বলেন, আবু সুফিয়ান আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের সাথী। আমার আন্দোলন সংগ্রামের সাথী। সার্বক্ষণিকভাবে আমরা রাজপথে লড়েছি। দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর আমরা বার বার জেলে গিয়েছি, কিন্তু আপোস করিনি। খালেদা জিয়া করেনি। তারেক রহমান করেনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা করেনি। তাই এই নির্বাচনেও আপোস করা যাবেনা। নির্দ্বিধায়-নির্বিঘ্নে যেন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, ভোট দিতে পারে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ভোটে জিততে চায়। কোন ধরণের কারচুপির মাধ্যমে নয়। তাই ১২ তারিখ মাথায় রাখতে হবে, এখন থেকে ১২ তারিখ রাত পর্যন্ত ভোটের ফলাফল হাতে না আসা পর্যন্ত আমরা শান্ত হবোনা। ভোটে ইনশাআল্লাহ আবু সুফিয়ান জিতবে। কিন্তু জিতলে হবেনা। বড় ব্যবধানে জিততে হবে। কেন বড় ব্যবধানে জিততে হবে? এটা একটা বিশ্বব্যাপী, দেশব্যাপী বার্তা দিতে হবে, বাংলাদেশের মানুষ কিসের পক্ষে? বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তি।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন- সেই নির্বাচনে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম-৯ আসন নয় সারাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে আগামীর যে নিরাপদ বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, জনগণের বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশের লক্ষ্যে তারা ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। আপনারা যারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলাদল, শ্রমিকদল, তাতীদল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এতদিন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে চট্টগ্রাম-৯ আসনকে মাতিয়ে রেখেছেন, উজ্জ্বীবিত করেছেন, মানুষের মধ্যে নতুন প্রেরণার সঞ্চার করেছেন, আমি সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা বিজয়ের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। এই বিজয় হবে জনগণের বিজয়। এ বিজয় হবে গনতন্ত্রের বিজয়। এ বিজয় হবে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়। এ বিজয় হবে জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরী ও এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক তারেক রহমানের বিজয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশের আশেপাশে অনেক ঠিকানা আছে। কিন্তু বিএনপির ঠিকানা হচ্ছে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি কবে। অতীতে আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে লুন্ঠনের কোন অভিযোগ ছিলনা। আগামীতেও আমরা ক্ষমতায় যাব-মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়। তাই সিদ্ধান্ত নিন, বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে আগামী ১২তারিখ ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের চিফ কোঅর্ডিনেটর ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব সামশুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ সবুর। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এড. আব্দুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সিহাব উদ্দিন মোবিন, সদস্য মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, গাজী সিরাজউল্লা, আনোয়ার হোসেন লিপু, একে খান, ইসমাঈল বালি, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, কাজী নুরুল্লাহ বাহার, আব্দুল মান্নান, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ার বেগম মনি প্রমুখ।