সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের ঐতিহাসিক ভোটকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার সকাল থেকেই প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য বড় শহরগুলোর কেন্দ্রে কেন্দ্রে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই যাবতীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরের দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাতের মধ্যেই নির্বাচনি উপকরণ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপারে তাঁদের রায় প্রদান করবেন। এর মধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করা হবে সাদা রঙের ব্যালট এবং জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি রঙের ব্যালট। এই দ্বৈত নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন ইতিমধ্যে তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।
ভোটের দিন নির্বাচনি এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্যকে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশাল বাহিনী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কাজ করবে। এ ছাড়া নির্বাচনি অপরাধ প্রতিরোধ ও তাৎক্ষণিক বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে মোট ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৭৭০টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। যদিও কারিগরি কারণে সব কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে সিসিটিভি ক্যামেরার এই ব্যাপক উপস্থিতি ভোট কারচুপি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে কমিশন আশাবাদী। উল্লেখ্য, ৩০০টি আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে একটি আসনের ভোট বর্তমানে স্থগিত থাকলেও বাকি ২৯৯টি আসনে ব্যালট যুদ্ধের যাবতীয় প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।
সারাদেশে ১২ কোটিরও বেশি ভোটার কালকের এই ব্যালট বিপ্লবে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটাররা যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই লক্ষে কাজ চলছে। নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণের এই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর টহলে পুরো দেশে এক নতুন রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে। সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন এখন চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে।