উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের সব ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে।ছোট কিছু ঘটনা ছাড়া সব এলাকা ছিল শান্ত।ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আগেই নেওয়া হয়। ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেন। একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট, আরেকটি গোলাপি ব্যালট গণভোট ।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম জুড়ে প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সকাল হওয়ার আগেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ কেন্দ্রে এসে অবস্থান নেন।নগরী এবং জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভেতর থেকে বাইরে পর্যন্ত নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৫ জন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮০ জন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ৫ লাখ ১ হাজার ৯১৬ জন এবং চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ৩লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার ছিল।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮ জন, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন, চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-খুলশি) আসনে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪৪ জন, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৮ জন এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৫ জন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ জন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) আসনে ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৪ লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন ভোটার ছিল।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ভোটারদের নিরাপদ ও ভয়ভীতিহীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি রাখা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
গণতন্ত্র ফিরে আসছে, মানুষ অনুভব করছে: আমীর খসরু
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভোটাধিকার প্রয়োগের পর অনুভূতি প্রকাশ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে।আমি তাদের সবাইকে আজ স্মরণ করছি, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আমি শ্রদ্ধা জানাই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে, যারা রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার আদায় করেছেন। আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি, যিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে গণতন্ত্রের জন্য আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই চলছে। গণতন্ত্র যে ফিরে আসছে, মানুষ তা অনুভব করছে।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উত্তর কাট্টলী মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন,এই ভোট আমাদের জন্য বিশেষ। কারণ বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭-১৮ বছর ভোট দিতে পারেনি। এই ভোটের পেছনে বহু মানুষের ত্যাগ রয়েছে, অনেক মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কেউ জীবন দিয়েছেন, কেউ গুম হয়েছেন, কেউ খুন হয়েছেন।অনেকে ব্যবসা হারিয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন। কেউ পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ জেলখানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তারেক রহমান নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশত্যাগ করে দীর্ঘদিন আন্দোলনের মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আবার একটি গণতান্ত্রিক অর্ডারের দিকে ফিরে যাচ্ছি।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ তাদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাবে। তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে, সরকার নির্বাচিত হবে-যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। এটাই গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র। আজকের এই ভোটের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমি কোথাও পক্ষপাতমূলক কিছু দেখিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রান্তিকালীন সময়ে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। বারবার তারা বিএনপির নেতৃত্বের ওপর ভরসা করেছে। এবারও আমি লক্ষ্য করছি, মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। জনগণের মধ্যে সেই দৃশ্যমান প্রত্যাশা রয়েছে যে, বিএনপি সরকার গঠন করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তা বাস্তবায়নের সুযোগ জনগণ দিতে চায়।
গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরাতে ভোট দিন- সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত
দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে তিনি তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল আজকের এই নির্বাচন। বহু বছর পর আমরা মুক্ত পরিবেশে, কোনো নিষ্পেষণ নির্যাতন ছাড়াই আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছি।
মেয়র বলেন, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সে সময় তাঁর নারী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকে এখানে যে ভোটের পরিবেশ—আমি বলব এটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। আমরা বারবার বলেছি, আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব। সেই অধিকার আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আমি মনে করি। এ জন্য প্রশাসন, সরকার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে তিনি সাধুবাদ জানান। তিনি অতীতের ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, তখনকার নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং একাত্মতা ছিল। ফলাফল যাই হোক না কেন, সবাই তা মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতেন।
তিনি বলেন, আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা চাই একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। আজও ফলাফল যাই হোক না কেন—এই আন্তরিকতা ও ঐক্যবদ্ধতা ধরে রাখতে হবে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে তিনি বলেন, নগরীর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে এবং ২২ লাখ ভোটারের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সবসময় একটি ‘ক্লিন, গ্রীন, হেলদি ও সেফ সিটি’র কথা বলেছেন।
মেয়র বলেন, নিরাপদ শহরে সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে—কেউ যেন ভোট দিতে এসে অপমানিত বা নির্যাতিত না হয়। গত ১৬ বছরে নির্বাচন অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল। আমরা চাই আজকের পরিবেশ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকুক। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করবেন, প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক ফলাফল প্রকাশের পর সবাই ঘরে ফিরে যাবেন এবং নির্বাচন প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হবে।
১৭ বছর পর মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে: মীর হেলাল
বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। ধানের শীষ অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতীক এ অঞ্চলে।দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে এলাকার মানুষের সাথে ছিলাম। আমি মানুষের সাথে মিশে আছি। হাটহাজারীতে সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে। আমি বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখছি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটায় তিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন,মহিলা ভোটারদেরও দীর্ঘ লাইন দেখছি। যে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এত বছর যুদ্ধ করেছি, সে অধিকার আজ মানুষ ফিরে পেয়েছে।
অপশক্তি যেন আর ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে: আবু সুফিয়ান
চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের নেত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন সংগ্রাম করেছেন। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাঁকে অন্যায়ভাবে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছিল। তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক বি ব্লক সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন,সেই গণতন্ত্র আজ ফিরে পাওয়ার আশায় মানুষ লাইন ধরে ভোট প্রদান করছে।
এই গণতান্ত্রিক ধারা বাংলাদেশে অব্যাহত থাকুক। আজকের দিনে একমাত্র প্রত্যাশা, আর যেন কোনদিন কোনও অপশক্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে।গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় আজ এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
আজ আমি আনন্দিত, আমরা আমাদের নাগরিক অধিকার তথা ভোটাধিকার নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে প্রয়োগ করতে পারছি। গণতন্ত্রের জন্য আমাদের দল বিএনপিসহ এদেশের মানুষ সংগ্রাম করেছে, আত্মত্যাগ করেছে। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ।
জীবনের প্রথম ভোট দিলাম: তামিম ইকবাল
চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ি মোড় থেকে একটু দক্ষিণে গেলেই তামিম ইকবালের বাড়ি। বাড়ির অদূরের আসকারদীঘির পাড়ের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোক প্রশাসন কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক। সঙ্গে ছিলেন তার বড় ভাই প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার নাফিস ইকবালও।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ভোট দিতে আসেন তামিম। পরে তিনি তার ভোটপ্রয়োগ করেন। ভোটকেন্দ্রে থেকে তাকে কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় তামিম ইকবাল বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। খুব আনন্দিত। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ভালো লাগছে। নির্বাচনের পরিবেশ খুব ভালো দেখছি। পছন্দের প্রার্থী পাশাপাশি গণভোটও দেন বলে জানান তামিম ইকবাল।
চট্টগ্রামে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে ভোটারের মৃত্যু
চট্টগ্রামে ভোট দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মনু মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মনু মিয়া নগরীর বাগমনিরাম এলাকার ব্যাটারিগলি এলাকার বাসিন্দা।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে কাজীর দেউড়ি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতের বড় ছেলে শাকিলও তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হন মনু মিয়া। এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে পড়ে যান তিনি। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে পরে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনোয়ারায় ভোটকেন্দ্রে মোমবাতি সমর্থককে মারধরের অভিযোগ
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনের গুন্দীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মোমবাতি প্রতীকের সমর্থক জহিরুল ইসলাম হেলালকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রের আশপাশে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে মোমবাতি প্রতীকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের সমর্থকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে কেন্দ্রের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রশাসন শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।