সচিবালয়ে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

সচিবালয়ে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে দ্বিতীয় কার্যদিবসে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ব্যস্ত সময় পার করলেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার দুপুর গড়াতেই সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানগণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন বিএনপি সরকারের এই প্রারম্ভিক কার্যক্রমকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

সাক্ষাৎকারটি ছিল মূলত সৌজন্যমূলক, যেখানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সাক্ষাতের ছবি ও তথ্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তির পর গত মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।

আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় কার্যদিবস ছিল। সকাল থেকেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ মূলত নতুন সরকারের প্রতি সামরিক বাহিনীর সংহতি ও প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ডের শক্তিশালী অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য যে, গতকাল বুধবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে দেশের বর্তমান সংকট নিরসনে তিনটি বিশেষ অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে আনতে বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কারের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গত কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

শিল্প উৎপাদন ও গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সচিবালয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম কয়েকদিনেই প্রশাসনের সর্বস্তরে গতিশীলতা আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে আজকের এই বৈঠককে অনেকেই দেখছেন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে।

টানা কয়েক বছরের রাজনৈতিক পালাবদল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য কমানোর যে অঙ্গীকার সরকার করেছে, তা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিন থেকেই যেভাবে সচিবালয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, তাতে প্রশাসনে এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নতুন সরকারের এই পথচলা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতখানি সুসংহত করতে পারে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, তার উত্তর দেবে সময়। তবে তিন বাহিনী প্রধানের আজকের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email