উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করলেন খামেনি

উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করলেন খামেনি

দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসনামলে এর আগে বহুবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিদেশি চাপ সামলেছেন। কিন্তু এবার যেন সব সমীকরণ বদলে গেছে। একদিকে মার্কিন বিমান হামলার হুমকি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের পতন; সব মিলিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আছে রণতরীর বহরও।

এছাড়া হাজার হাজার সৈন্য ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানতো আছেই। এখন শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুকুম পেলেই তারা আগ্রাসন চালাবে ইরানে। ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে সম্ভাব্য সব পরিণতির কথা ভেবে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিজের সম্ভাব্য অপসারণ বা নিহতের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে খামেনি ভবিষ্যতে ইসরায়েলি বা মার্কিন হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে তাহলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির কূটনীতিকরা।

ইরানের সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হলে কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, তা নিয়ে নিজেই নির্দেশনা দিয়েছেন। নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এ বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরাধিকার ও জরুরি কমান্ড চেইনসহ একাধিক স্তরের বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খামেনি তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার আলী লাজরানিকে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে আসেন। কার্যত তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বের শীর্ষে বসানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আলী লারিজানি বিক্ষোভ দমন তদারকি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংবেদনশীল পারমাণবিক কূটনীতি পরিচালনা এবং রাশিয়া, কাতার ও ওমানসহ মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধকালীন পরিকল্পনাও তিনি দেখভাল করছেন।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, খামেনি সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করেছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা তিনি নিহত হলে যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য একটি ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ চক্রকে ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবু তাকে খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত সংকট-পরিচালক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email