চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে শিশুসহ ৮ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামে একটি ছয়তলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— শিপন (৩০), সুমন (৪০), শাওন (১৭), আনাস (৭), আইমান (৯), শাখাওয়াত (৪৬), আয়েশা (৪), পাখি (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)।
জানা গেছে, হালিমা মঞ্জিল নামে ৬ তলা ওই ভবনটির তৃতীয় তলায় একটি বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাসায় থাকা শিশুসহ ৮ জন দগ্ধ হন। স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের অপারেটর জানান, বিস্ফোরণের সময় ঘরে থাকা নারী ও শিশুসহ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না। সেখানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাস সংযোগ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে যায়। পরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।’
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারী এবং সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া একজনের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ, আরেকজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দগ্ধদের সবার শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি।’