জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে না পারা একটি বড় ব্যর্থতা। গত ১৬-১৭ বছর ধরে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করেছে এবং বিভিন্ন বিতর্কিত নির্বাচনে জনমতের 'সম্মতি' তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত সরকারগুলোর সময়ে গণমাধ্যম কীভাবে ম্যানিপুলেটেড হয়েছে এবং প্রেসক্লাবগুলো কীভাবে একটি নির্দিষ্ট দলের কুক্ষিগত ছিল, তা সবার জানা।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও গণমাধ্যম হাউসগুলো নিজেদের সংস্কারে কোনো দায়িত্বশীলতা দেখায়নি। ফলে এখনো গণমাধ্যমের ভেতরে ফ্যাসিবাদের একটি বড় অংশ সক্রিয় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন খবরের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথাও না বললেও গণমাধ্যমে 'পুলিশ হত্যা' নিয়ে ব্যাপক নিউজ প্রচার করা হয়েছে। এটিকে তিনি পতিত স্বৈরাচারের রাজনীতির অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।
তার মতে, এই ধরনের সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার এবং সরকারের ওপর উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, গণমাধ্যম এখনো নানাভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে, যা মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এই স্বাধীনতা কোনো অবাধ স্বাধীনতা নয়, গণমাধ্যমকেও অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। তিনি আহ্বান জানান যেন প্রেসক্লাবগুলো কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের কুক্ষিগত না হয়ে সত্য প্রকাশের জায়গা এবং সকল গণতান্ত্রিক শক্তির আস্থার স্থল হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সাংবাদিকতা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে হত্যা মামলা দেওয়া সঠিক প্রক্রিয়া নয়। তবে যারা সরাসরি গণহত্যায় অংশ না নিলেও গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পক্ষে 'সম্মতি উৎপাদন' করেছে, তারা নৈতিকভাবে অপরাধী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়া বুদ্ধিজীবীদের বিচারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে অথবা নিউট্রালাইজ করতে হবে। নতুন সরকার এই স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
চট্টগ্রামকে আন্দোলনের অন্যতম ‘হটস্পট’ এবং রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবে। সত্য প্রকাশে তিনি চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত প্রমুখ।