কয়েক মাসের বিরতির পর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নজর কাড়লেন। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে তাদের সর্বনিম্ন স্কোরে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান টাইগাররা। বিশেষ করে তানজিদ হাসান তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বোলাররা কোনো উপায় পাননি। তার ৩২ বলের ফিফটির মধ্যে বাংলাদেশ সহজ জয় পায়।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৩০.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে নাহিদ ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন। জবাবে মাত্র ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
শুরুর দিকে ওপেনার সাইফ হাসান ৪ রান করে আউট হলে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। তবে অন্য প্রান্তে তানজিদ তামিম ঝড় তুলেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তিনি ৩২ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৬৭ রানে মাঠ ছাড়েন।
পাকিস্তানের প্রথমে নতুন বলে মিতব্যয়ী বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। তবে উইকেট পাওয়া সম্ভব হয়নি। সপ্তম ওভার থেকে স্পিন আক্রমণে আসে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজও বোলিংয়ে নামেন, কিন্তু তাতে তাত্ক্ষণিক উইকেট আসেনি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নাহিদকে বল দেওয়া হয় এবং তিনি দলের জন্য প্রথম উইকেট নিয়ে ব্রেকথ্রু নিশ্চিত করেন। এরপর নিজের পরের চার ওভারে তিনি যথাক্রমে শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরান। এই ফাইভারের মাধ্যমে তিনি ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেন।
১৯তম ওভারে মিরাজও উইকেট পার্টিতে যোগ দেন। আব্দুল সামাদ, হোসাইন তালাত ও শাহিন আফ্রিদি আউট হন তার নিয়ন্ত্রণে। পরে তাসকিন প্রথম স্লিপে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ধরা পড়ান।
৮২ রানে নবম উইকেট হারানোর পর পাকিস্তান একশ রানের আগে অলআউট হওয়ার আশঙ্কায় পড়লেও ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদ শেষ উইকেটে ৩২ রান যোগ করে দলের স্কোর ১১৪ রানে পৌঁছে। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে পাকিস্তান কোনো রকমে দুই অঙ্কের বেশি স্কোর করতে সক্ষম হয় না।