চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে যুবদল কর্মী সজিব আলম হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তাখালী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং ওয়ার্ড মেম্বার হওয়া নিয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম ও ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার রেশ ধরে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুপ্তাখালী গ্রামের আমতলা এলাকায় উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যাতে অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষের পর অন্য আহতরা সরে যেতে পারলেও শাহাবুদ্দিনের কেয়ারটেকার ও যুবদল কর্মী সজিব আলম নিখোঁজ হন।
ঘটনার রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। পরদিন বুধবার সকালে গুপ্তাখালী গ্রামের একটি টমেটো ক্ষেত থেকে সজিব আলমের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, মূলত মেম্বার পদ নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরে এই সংঘর্ষ ও প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।