সাংবাদিকদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ কোনো অনুদান নয়, বরং গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। অনেকের আঙুলে ভোটের কালির দাগও শুকায়নি। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, কৃষক কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে এবং কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা কেউ গাড়ি বা প্লট নেবেন না। সরকারের যাত্রার শুরুতেই নেওয়া উদ্যোগগুলো থেকে আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণ ধারণা পেয়েছে।
গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম ছাড়া সভ্যতার চর্চা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে থাকে। রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল করতে হলে সময়োপযোগী করে ঢেলে সাজাতে হবে। রাষ্ট্রে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি থাকলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়ত না। আমরা জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাংবাদিকদের দেওয়া অর্থ কোনো অনুদান নয়, এটি তাঁদের প্রাপ্য। গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকেরা কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবিও জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কালাম আজাদ, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাস।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ছাড়া বাকি সাত জেলার ৫১ জন সাংবাদিককে আর্থিক অনুদান এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক দেওয়া হয়।