জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার দুপুরেছবি: বিটিভির সৌজন্য
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিগত কয়েক বছর ধরে চলে আসা ‘ভর্তি লটারি’ পদ্ধতি নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম তাঁর কাছে মোটেও যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার লটারি প্রথা চালু করেছিল, যা অনেক ক্ষেত্রেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা কেবল লটারির ওপর নির্ভর করতে চাই না।’
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির স্বচ্ছ ও কার্যকর পদ্ধতি কী হতে পারে, তা নির্ধারণে খুব শীঘ্রই সকল অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সরকার। শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়েই ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে জানান যে, সারাদেশে শূন্য পদে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সনদ ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে কিছু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সনদ সংক্রান্ত এই জটিলতা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ধর্মীয় শিক্ষা বলতে সরকার কেবল একটি বিশেষ ধর্মকে বোঝায় না। বরং ইসলামসহ সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এই নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকার এখনই গণহারে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বেশি বদ্ধপরিকর।
তবে দেশের কোনো অঞ্চলে যদি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে সরকার তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
সংসদের দ্বিতীয় দিনের এই অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘মেধাভিত্তিক’ সংস্কার আনতে চায়। লটারি প্রথার বিরোধিতা এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা—শিক্ষা খাতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এখন তাকিয়ে আছেন ভর্তি পরীক্ষার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে আসে কি না, সেই সিদ্ধান্তের দিকে।