অভ্যন্তণীর সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য অভ্যন্তরীণ করব্যবস্থা সুসংহত করতে হবে। দেশকে ভালভাবে পরিচালনার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তার সংস্থান যথাযথভাবে হবে হবে। রাজস্ব ব্যবস্থায় ডিসিপ্লিন পরিবেশ আনতে হবে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাইলেজশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমদানি পণ্যের কমার্শিয়াল ইনভয়েস অনলাইনে যাচাই করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে প্যাকিং লিস্টও অনলাইন করা হবে। তাহলে পেপারলেস কাস্টমস পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে। একজন যোগ্য ও শিক্ষিত নাগরিক যেন সিএন্ডএফ পেশায় আসতে পারে তার জন্য প্রতি বছর সিএন্ডএফ লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সিএন্ডএফ লাইসেন্সের আওতায় সব কাস্টমস স্টেশনে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। ঈদের ছুটিতে সিএন্ডএফ এজেন্টরা নিরলস দায়িত্ব পালনের কারণে বন্দরে পণ্য জট কম ছিল। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রাম ক্লাব এ চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি এসোসিয়েশনের বাজেট প্রস্তাবনার ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন, পণ্যের শ্রেনীবিন্যাসে অসংগতি ও শুল্ক ফাঁকির বিষয়গুলো বাজেট প্রস্তাবনায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি যৌক্তিক প্রস্তাবনা সমূহ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ এবং কাস্টমস সি এন্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবনা সমূহ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, সি এন্ড এফ এজেন্টগণ আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের প্রধান চালিকা শক্তি। তাই সঠিকভাবে রাজস্ব আহরণ ও রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অন্যায় অনিয়মকে প্রশ্রয় না দিয়ে সি এন্ড এফ এজেন্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শফিউল আজম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী। তিনি কাস্টমস সি এন্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালার সিএন্ডএফ পেশা স্বার্থ বিরোধী কালো বিধিসমূহ বাতিল, সিএন্ডএফ কমিশনের উপর উৎসে কর হার হ্রাস ও উৎসে পরিশোধিত করকে চূড়ান্ত করদায় হিসাবে বিবেচনা করা, আমদানি পণ্য বন্দরে অবতরণের ৪৫ দিন পূর্বে নিলামে তালিকাভুক্ত না করা, স্থল ষ্টেশন থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত সিএন্ডএফ এজেন্টদের কাস্টমস হাউসে অধিক্ষেত্র সংযোজনের বিধান রহিত করা, আমদানি পণ্যের শ্রেণীবিন্যাসে অসংগতিসহ শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও রাজস্ব আহরণ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে এক গুচ্ছ প্রস্তাবনা বই আকারে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর উপস্থাপন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস নীতি ও আইসিটি) মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর, সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো: আজিজুর রহমান, কাস্টমস হাউস, আইসিডি চট্টগ্রাম এর কমিশনার আবুল বাসার মো: শফিকুর রহমান, কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম এর কমিশনার মো: শফি উদ্দিন, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সল মো: মুরাদ, কাস্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালক ম. সফিউাজ্জামান, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট এর কমিশনার মো: মাহফুজুল হক ভূঞা, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মো: জাকির হোসেন, কর কমিশনার (আপিল) এর কমিশনার শামিনা ইসলাম, কর অঞ্চল-২ এর কমিশনার সাধন কুমার রায়, এনবিআর ও কাস্টমস এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।