বিচার বিভাগে ‘মানিক-খায়রুল’ জন্ম হোক চান না আইনমন্ত্রী

বিচার বিভাগে ‘মানিক-খায়রুল’ জন্ম হোক চান না আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, “আমরা চাই না, বাংলাদেশে আর কোনও মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না, বাংলাদেশে আর কোনও খাইরুল হক গজিয়ে উঠুক। সুপ্রিম কোর্টে ভালো বিচার হোক। মানুষের ন্যায় বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক সুপ্রিম কোর্ট। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুক।”

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ উত্থাপনের পর বিরোধীদলের সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের বিরোধিতা করে দেওয়া বক্তব্যের পর আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে, বিশেষ করে গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে পার্টি ক্যাডারদেরকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যে নিয়োগের মাধ্যমে খায়রুল হকের জন্ম হয়েছে। যে নিয়োগের মাধ্যমে আমার বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে হৃদপিণ্ড সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আক্রমণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই আমরা চাই, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটা আরও স্বচ্ছ হোক। আমরা চাই, সুপ্রিম কোর্টে ভালো বিচার হোক, মানুষের ন্যায় বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক। এই আইনটায় যে ডিফেক্টটা আছে সেটা আমি বলবো অধ্যাদেশে।”

অন্তর্বর্তী সরকারে সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ নিয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ওই সময় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ছিলেন আসাদুজ্জামান। সে সময় তিনি এই আইনকে ডিফেন্ড করেছেন বলে জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রের একজন আইনজীবী সরকারের ব্রিফ ক্যারি করেন, ইন্সট্রাকশন ফলো করেন ৷ আমি যখন কথা বলি আদালতে অ্যাটর্নি হিসেবে তখন সরকারের কথা বলি। সরকার আমার মক্কেল, আমি আমার মক্কেলের পক্ষে কথা বলেছি। ওই সরকারের পাবলিক পলিসি ছিলো, এই অধ্যাদেশ জারি করা। সরকারের সেই পাবলিক পলিসি নিয়ে আমি আমার মক্কেলের পক্ষে কথা বলেছি। আমি এখন এই সরকারের মন্ত্রী, এই পার্লামেন্টের সদস্য। আমার সরকারের পাবলিক পলিসি হলো, বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণ। এর জন্য আমরা নতুন করে পদক্ষেপ নেবো।”

তিনি বলেন, “যে অধ্যাদেশের কথা উনারা বলছেন, অধ্যাদেশের ডিফেক্টটা কোথায় শুনবেন? উনি আর্টিকেল ৯৫ সি পড়েছেন। ৯৫ টু সি-তে বলা হচ্ছে, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট আইন পাস করতে পারবেন। অবসলিউটলি, কিন্তু ৯৫ ওয়ান পড়েননি উনি। ৯৫ ওয়ান এ বলছে, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। আর্টিকেল ৯৮ টা পড়েন সংসদ সদস্য। ৯৮ এ কিন্তু এই কথা বলা নাই। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শেরও দরকার নাই। অস্থায়ী বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শের কোনও প্রয়োজনও নাই।

“কনস্টিটিউশনের ৯৮টা দেখেন, সেখানে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করবেন অস্থায়ী ভিত্তিতে। আমাদের কথা হলো, উনি আর্টিকেল ৩১ পড়লেন। কিসের আর্টিকেল ৩১, জুলাই সনদের। জুলাই সনদের আর্টিকেল ৩১ এ আপনারা বলছেন, একদিকে বিচারক নিয়োগের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আরেক দিকে বিলের বিরোধিতা করছেন। সংবিধান যদি সংশোধন করতে আপনারটাই ধরে নিলাম। সংবিধান আপনি দেখেন, আর্টিকেল অফ দ্য জুলাই চার্টার আমি পড়ি আপনাদের সামনে কি লিখা আছে। এই পার্লামেন্টের সবার ক্লিয়ারিটির জন্য বলছি। উনারা আর্টিকেল লেফট হ্যান্ড কলামকে রিলাই করছেন। লেফট হ্যান্ড কলামে আছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংবিধানে রূপযুক্ত করা হইবে যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন গঠন করা হইবে।”

আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা বিএনপি বলেছি, আমরা বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় আইন প্রণয়ন করবো। আমরা সংবিধান সংশোধন সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি করতে চাচ্ছি ৷ আমরা সেই কমিটির কাছে ফিরে যাই। সেই কমিটির কাছে যেয়ে আপনি যে আইনটার কথা বলছেন, আপনি বিচারক নিয়োগের যে স্বচ্ছতার কথা বলছেন, আপনি যে মানদণ্ডের বিচারক চান, আপনি যে সুপ্রিম কোর্ট চান, আপনি যে বিচার বিভাগের মানদণ্ড চান, আপনি যে বিচারালয় চান, আমরাও সেই বিচারালয় চাই। আমরা চাই না, বাংলাদেশে আর কোনও মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না, বাংলাদেশে আর কোন খাইরুল হক গজিয়ে উঠুক। আমরা চাই না, আর কোনও বিচার বিভাগীয় কিলিং হোক। আমরা চাই, এই বিচার বিভাগ স্বচ্ছ স্বাধীন সক্রিয়তায় ভরপুর হোক। আমরা চাই, রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকুক। আমরা চাই, যার যার ফাংশন সেই সেই করুক।”

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email