খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর ফেরি পারাপারের দীর্ঘ ৩৭ বছরের ভোগান্তি ও প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে নির্মিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ক্যাবল-স্টেইড সেতু। ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ে নির্মিতব্য এই সেতুটি পাহাড়ের তিন জেলা—রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িকে একই সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসবে।
জানা যায়, রাঙামাটির সাথে রাজস্থলী ও বান্দরবানের যাতায়াত সহজ করতে ১৯৮৯ সালে কর্ণফুলী নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পার হলেও একটি মাত্র ফেরিই ছিল যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কয়েক হাজার যানবাহন পারাপার হলেও রাতের বেলায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পন্টুন সমস্যা, ডুবোচর কিংবা নদীর তীব্র স্রোতে প্রায়ই ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন মাত্র দুই মিনিটের পথ পাড়ি দিতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৫৩২ মিটার। এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যাবল-স্টেইড সেতু, যেখানে সেতুর পাটাতনের ওজন সরাসরি মূল টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত তির্যক তারের মাধ্যমে বহন করা হবে। গত ৯ মার্চ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় এই সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাইখালী রুটের ট্রাকচালক রহিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ইট আনা-নেওয়ার কাজে এই ফেরি পার হতে হয়। কখনো এক ঘণ্টায় পার হওয়া যায়, আবার কখনো দীর্ঘ লাইনে বসে থাকতে হয়। সেতুটি হলে আমাদের আর সময়ের অপচয় ও জীবনের ঝুঁকি থাকবে না।
রাঙামাটি সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, সেতুটির চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি নির্মিত হলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত দুই জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানের পর্যটন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহনে একটি নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।