ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছি। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি।সর্বশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার যে উদ্দেশ্য ছিল, তা বহুলাংশে সফল হয়েছে। বাংলাদেশ আমাদের গৌরবের রাষ্ট্র।
আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের অধিকার আদায় করেছি। এই সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল)দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন আয়োজিত নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এর নেতৃত্বে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়ে চবির জারুলতলায় এসে শেষ হয়।
এরপর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রক্টর ও পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী।
তিনি আরও বলেন, এ দেশ কারও একার নয়। এটি ১৮ কোটি মানুষের দেশ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদের সূচনা করেছিলেন, কারণ এখানে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষের বসবাস। সবাইকে ধারণ করার জন্যই তিনি এই দর্শনের প্রবর্তন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রংধনু জাতি’ গঠনের কথা বলেছেন। আজ আমি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে এর প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমার বাবা-মা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পড়াশোনা করেছেন। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যে দুটি ডিপিপি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব। সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান এ এলাকায় তথা পুরো বাংলাদেশে হবে না। আমরা দখলদারিত্ব ও সব ধরনের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।
আলোচনা সভা ছাড়াও চবিতে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখের গান ও নৃত্য, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলা, বলী খেলা, বউচি খেলা, পুতুল নাচ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।