সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ আজ বুধবার চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত কর্ণফুলী টানেলের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী এই পরিদর্শনে তিনি টানেলের আয় বৃদ্ধির নতুন কৌশল এবং অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
সচিব সেতু বিভাগ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং আমাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন।
পরিদর্শনের শুরুতে সেতু সচিব টানেল সংলগ্ন কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেড-এর জেটি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তিনি কর্ণফুলী টানেলের টোল আদায় ও সার্বিক আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেড-এর জেটি ব্যবহারের মাধ্যমে টানেলের ব্যবহার ও উপযোগিতা বৃদ্ধি করে কীভাবে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় টানেলের টোল আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটির বহুমুখী ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সচিব সেতু বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই টানেলকে আরও কার্যকর করতে পণ্যবাহী যাতায়াত ও লজিস্টিক সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটির সাথে টানেলের সংযোগ ও সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে টানেলের ব্যবহারকারী বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করেন।
টানেলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির হেলথ মনিটরিং ইকুইপমেন্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সেতু সচিব স্থাপনাটির ভেতরে প্রবেশ করে স্বয়ংক্রিয় এই সেন্সর ও মনিটরিং সিস্টেমের যান্ত্রিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য যে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে টানেলের ভেতরের বায়ু চলাচল, ভূমিকম্পন সহনশীলতা এবং যে কোনো ধরনের ফাটল বা ত্রুটি রিয়েল-টাইম ডাটার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “টানেলের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ধরনের ত্রুটি কাম্য নয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত দেশের মতো আমাদের এই মেগা প্রকল্পের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং যথাযথ মান বজায় রেখে এই সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ স্থাপনের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্ণফুলী টানেল সাইট অফিসের কর্মকর্তাগণ এবং কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেড এর অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।