এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

সারা দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ‘২ জুলাই ২০২৬’ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে।

শনিবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাধারণত প্রতিবছর পরীক্ষার একটি সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা থাকলেও এবার তা কিছুটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হলো। এর আগে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা ‘৭ জুন‘থেকে শুরু করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছিল।

তবে সেই তারিখ নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রায় এক মাস পিছিয়ে জুলাইয়ের শুরুতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমরা আগের সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসেছি। ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোও সব ধরনের লজিস্টিক কাজ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিবছর গড়ে ‘১২ থেকে ১৩ লাখ‘পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও কয়েক লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। দেশব্যাপী কয়েক হাজার কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশাল এই জনবল ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিশালতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলো এখন থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন করাকে এবারও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

যদিও বোর্ড থেকে নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণের কথা বড় করে বলা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি এবং শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে। জুনের প্রথমার্ধে বর্ষার প্রকোপ এবং কিছু এলাকায় বন্যার ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে জুলাইয়ের তারিখটি তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এছাড়া সাত জুন থেকে পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির যে সময় পেত, ২ জুলাই শুরু হওয়ার ফলে তারা অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহ সময় পাওয়ায় পড়াশোনার ঘাটতি পূরণের সুযোগ পাবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ এবং বিস্তারিত সময়সূচি (রুটিন) সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোতে প্রকাশ করা হবে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ সকল পরীক্ষার্থীকে গুজবে কান না দিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সাথে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অবশ্যই বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে দ্রুততম সময়ে রুটিন সংগ্রহ করা, প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে দুর্বল বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া ও পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য কেবল নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের ওপর ভরসা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার তারিখ পেছানোর খবরটি আসার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজধানীর একটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, “জুলাইয়ে পরীক্ষা শুরু হওয়াটা ইতিবাচক। এতে করে ক্লাসে পাঠদানের সময় বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে আরও স্থিতিশীল হয়ে পরীক্ষার হলে বসতে পারবে।”

তবে অনেক অভিভাবক মনে করছেন, বারবার তারিখ পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে চূড়ান্ত তারিখ হাতে আসায় এখন পড়াশোনার গতি বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা একটি শিক্ষার্থীর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২ জুলাইয়ের এই নতুন যাত্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তাদের মেধার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পারে, সেই প্রত্যাশাই করছে শিক্ষা পরিবার।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email