ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে আলোচনায় ছিল শোবিজ অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি কোনো নায়িকা, গায়িকা বা তারকা ব্যক্তিত্ব। এতে স্পষ্ট হয়েছে- জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার শেষে এই তালিকা নির্ধারণ করা হয়।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, কনকচাঁপা, নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী এবং অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনাও তৈরি করেছিলেন।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাদের কেউই জায়গা পাননি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত বেবী নাজনীন মনোনয়ন না পাওয়ায় শোবিজ অঙ্গনের একটি অংশে হতাশার সুর শোনা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী বাছাইয়ে মূল বিবেচনায় রাখা হয়েছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ত্যাগ ও সংগঠনের প্রতি অবদান। সেই জায়গায় অনেক তারকা পিছিয়ে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘোষিত তালিকায় যেমন আছেন অভিজ্ঞ নেত্রী সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা- তেমনি জায়গা পেয়েছেন নতুন মুখও। অর্থাৎ দলটি একদিকে অভিজ্ঞতা ধরে রাখতে চেয়েছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির দিকেও নজর দিয়েছে।
এই তালিকা থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা মিলছে- বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনকে শুধু পরিচিত মুখের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে না। বরং দলীয় কাঠামোর ভেতরে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
যদিও তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলীয় কৌশলেরই অংশ। জনপ্রিয়তার বাইরে গিয়ে সংগঠনভিত্তিক নেতৃত্বকে এগিয়ে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।