বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ছিল সাবধানী। তবে টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং নিপুণ ফিল্ডিংয়ের সামনে তারা বেশিক্ষণ প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২১০ রানেই থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ৫৫ রানের এই বিশাল জয় নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে উদযাপনে মেতে ওঠে মাঠের এগারো জন যোদ্ধা। ইনিংসের শুরু থেকেই কিউই ব্যাটাররা চাপে ছিলেন। বাংলাদেশের স্পিন এবং পেসের যুগলবন্দীতে কোনো বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয় তারা। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোই ব্ল্যাক ক্যাপসদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল বোলারদের শৃঙ্খলা। অধিনায়ক যখনই যার হাতে বল তুলে দিয়েছেন, তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন। শুরুর ১০ ওভারে কিউইদের আটকে রাখতে সক্ষম হন পেসাররা। মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনাররা কিউই ব্যাটারদের হাত খুলে খেলতে দেননি। উইকেট থেকে ঘূর্ণি এবং বাউন্স আদায় করে নিয়ে একের পর এক উইকেট শিকার করেছেন তারা। শেষ দিকে যখন রান রেট আকাশচুম্বী, তখন কিউই ব্যাটাররা বড় শট খেলতে গিয়ে ফিল্ডারদের তালুবন্দী হয়েছেন।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, আমরা জানতাম নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। কিন্তু আমাদের বোলারদের পরিকল্পনা ছিল একদম পরিষ্কার, উইকেটে বল রাখা এবং ডট বলের চাপ তৈরি করা। সেই চাপটাই শেষ পর্যন্ত আমাদের জয় এনে দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে ঘরের মাঠে হারানো বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই বিশেষ কিছু। এই সিরিজ জয়ের পেছনে বেশ কিছু প্রভাবক কাজ করেছে। বড় দলের বিপক্ষে এই জয় ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই ম্যাচে সিনিয়রদের পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া চট্টগ্রাম মন্থর এবং ঘূর্ণি উইকেটের সুবিধা বাংলাদেশ যেভাবে কাজে লাগিয়েছে, তা ছিল বিশ্বমানের।
আজকের ম্যাচে মাঠের উত্তেজনার চেয়েও গ্যালারির উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে যখন নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেটের পতন ঘটে, তখন যেন গোটা দেশ একযোগে উল্লাসে ফেটে পড়ে। ২১০ রানে কিউইদের থামিয়ে দেওয়া ছিল বাংলাদেশের পরিকল্পিত বোলিংয়ের চূড়ান্ত সার্থকতা। ৫৫ রানের এই ব্যবধান প্রমাণ করে যে, ফরম্যাট যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ এখন যে কাউকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।
