চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে অবহেলার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। দুর্জ্জাখালী খালের ওপর এখনো একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোই স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা। খালের মাঝামাঝি বিজয় বড়ুয়া বাড়ির সামনে স্থাপিত এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন শত শত মানুষ।
খালের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতঘর, যেখানে অধিকাংশই নিম্নআয়ের মানুষের বসবাস। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রতিটি প্রয়োজন শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার কিংবা কর্মস্থলে যাতায়াত সবকিছুতেই এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত সরকারের সময় অনেকেই এসে দেখেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন দ্রুত একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস আজও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।”
শুধু সাধারণ চলাচলই নয়, স্থানীয় কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। খালের দুপাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি থাকলেও চাষাবাদের সময় যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে কৃষি উপকরণ বহন করা যেমন কঠিন, তেমনি এতে সময় ও ব্যয় বাড়ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী ও নিরাপদ কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। এতে একদিকে যেমন নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষি কার্যক্রমে গতি আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিনের এই অবহেলার অবসান চান স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে দুর্ভোগে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াবে।