
কর্ণফুলী নদী দখল-দূষণ রোধ ও ঐতিহ্য- সাংস্কৃতি রক্ষ্যায় ৫০ কিলোমিটার ব্যাপী বিনি সুতার মালা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘাট থেকে ঘাটে ঘুরে ঘুরে বক্তব্য আঞ্চলিক গান ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে নদী দখল ও দূষণমুক্ত হট এবং মাঝিদের অধিকারের কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টায় নগরের সদরঘাট থেকে শুরু হয়ে লাম্বুরহাট পর্যন্ত উভয় তিরের প্রতিটি বাজার ও ঘাটের মানুষদের সচেতন করার পাশাপাশি মাঝিদের অধিকারের কথা বলা হয়।
চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সংস্কৃতি মেলার’ প্রথম দিনের অনুষ্ঠান হচ্ছে ‘বিনি সুতার মালা’।
নদীর উভয় পাড়ের ৩০টি ঘাটে এবং নদীপারের জনবসতি ঘিরে আলোচনা, নাচ, গানের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীকে দখল-দূষণমুক্ত রাখতে নদী ব্যবহারকারীদের সচেতন করতেই এ আয়োজন।
ভাসমান নৌযানে তৈরি মঞ্চে সদরঘাট, চরপাথরঘাটা, নয়াহাট, কালুরঘাট, বোয়ালখালী, লাম্বুরহাট ইত্যাদি ঘাটে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতিকে গবেষণা কেন্দ্র চেয়ারম্যান সাংবাদিক আলীউর রহমানের সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের উপদেষ্টা মির্জা ইসমাইল’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডাঃ মাহজুর রহমান।
বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী দখল ও দূষণে চারিদিকে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। নদীর চারপাশে যে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে তা উচ্ছেদ করার জন্য হাইকোর্ড আদেশ দিয়েছে কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তা অমান্য করে এ নদী দখল ও দূষণে লিপ্ত রয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, মানুষের চেয়ে নদী ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়ভার বেশি। নদীর চারপাশে যে সমস্ত কলকারখানা গড়ে উঠেছে তারা প্রতিনিয়ত বর্জ্য ও ময়লা ফেলে নদী দূষণ ও ভরাট করছে। তাই প্রয়োজনে তাদেরকে ETP ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী ফরিদ বলেন , কর্ণফুলী নদী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে। কর্ণফুলী নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। কর্ণফুলী নদী বাঁচলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি হবে। তাই কর্ণফুলী নদী রক্ষায় তিনি ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের’ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের অব্যবস্থাপনায় কর্ণফুলীর প্রাকৃতিক রূপ ও সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
এত প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, খালেদা জিয়া সৃতি সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জসিমউদ্দিন।
চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান বলেন, কর্ণফুলী নদীর তীরে যে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে তা অতিসত্বর দখল ও দূষণ মুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি আরো বলেন, শস্য খালাসের নামে অভয়মিত্র ঘাটে স্থাপিত লাইটার জেটিতে শিল্প কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য খালাস করা হচ্ছে। এই বর্জ্য স্ক্র্যাপ খালাস করার সময় যে সমস্ত স্ক্রাপ পানিতে পড়ে পানি দূষণ করছে তার মাধ্যমে বায়ু দূষণের ফলে ফিরিঙ্গি বাজার বন্দর আবাসিক এলাকা সংলগ্ন এলাকার
পরিবশও দূষিত হচ্ছে। যা সামুদ্রিক প্রাণির পাশাপাশি মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আজকে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা জানিয়ে দিচ্ছি আগামী দুই মাসের মধ্যে এর কোন ব্যবস্থা করা না হলে আমরা কঠোর প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করবো।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন বি এন পির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা বাহার উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম মঈন উদ্দিন, সেলিম খান, জসিম উদ্দিন, এম পেয়ার আলী, জাফর আহমদ, লোকমান দয়াল, মুছা মেম্বার, এম মুছা সিকদার, রমজান আলী রমু, বাহাদুর, মাহবুব আলম, আকিব জাবেদ, সালাউদ্দিন, রানা, গাজী ও প্রমূখ।
মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেন রাইটেন দাশ ও তার দল।
দ্বিতীয় দিন শনিবার ( ৯ মে) বেলা ১১টায় নগরীর অভয়মিত্র ঘাট থেকে সাম্পান শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার বিকেল ৩ টায় অভয়মিত্র ঘাট থেকে চরপাথরঘাটা সিডিএ মাঠে সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সংস্কৃতিমেলা অনুষ্ঠিত হবে।







