পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘকালীন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল ও কলেজগুলোতে টানা ১৬ দিন এবং মাদ্রাসাগুলোতে ২১ দিনের ছুটি কার্যকর থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৭ দিনের ঈদের ছুটির পাশাপাশি অফিসের সময়সূচিতে বিশেষ পরিবর্তনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যমতে, সরকারি অফিসের ছুটি বিন্যাসের কারণে আগামী ২৩ মে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ওই দিন সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে সরকারি অফিসের ছুটির এই পরিবর্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
দেশের প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং ঈদুল আজহার সম্মিলিত ছুটি শুরু হবে আগামী ২৪ মে থেকে, যা চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। ছুটির আগে ও পরের সাপ্তাহিক বন্ধ যুক্ত হয়ে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবে।
কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও ছুটির চিত্রটি প্রায় একই রকম। কলেজে ঈদের মূল ছুটি ১২ দিন নির্ধারিত থাকলেও এর সঙ্গে সাপ্তাহিক বন্ধগুলো যুক্ত হয়ে মোট ছুটির মেয়াদ দাঁড়াবে ১৬ দিনে। অন্যদিকে মাদ্রাসাগুলোতে ছুটির সময়সীমা তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে ২৪ মে এবং শেষ হবে ১১ জুন। এর সঙ্গে শুরুর দিকের সাপ্তাহিক ছুটিগুলো যুক্ত হওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সব মিলিয়ে টানা ২১ দিনের একটি দীর্ঘ বিরতি পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই রমজান, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ ছুটির তালিকা রাখা হয়। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গ্রীষ্মকালীন অবকাশের সঙ্গে কোরবানির ঈদের ছুটি মিলে যাওয়ায় এবার বিরতির দৈর্ঘ্য বেড়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস চালু রাখার মাধ্যমে ঈদের সময় টানা ছুটির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই দীর্ঘ ছুটি শেষে পুনরায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে ফিরে আসবে।