চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকে ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল (ছাত্র-ছাত্রী) টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক বা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের পাশাপাশি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটায়। এছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে কানেক্টিভিটি বাড়ে এবং সংস্কৃতি বিনিময় হয়।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ও বর্ণাঢ্যভাবে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল (ছাত্র-ছাত্রী) টুর্নামেন্ট ২০২৬ উপলক্ষে আজ রবিবার (১০ মে ২০২৬) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এসব কথা বলেন।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে আমন্ত্রিত অতিথি, ক্রীড়াবিদসহ উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা, স্বাগত ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। প্রত্যেকের অংশগ্রহণে সাড়ম্বরে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন, সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতা অত্যন্ত সফল ও সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত হোক। এরই ধারাবহিকতায় এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। উপাচার্য টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং ক্রীড়াবিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে স্ব-স্ব দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকার আহ্বান জানান। উপাচার্য দারুণ আয়োজনের জন্য চাকসু এবং চবি শারীরিক শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সকল ক্রীড়াবিদ, কমিটির সদস্য ও এর সাথে সম্পৃক্ত সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চবি ক্রীড়া উপদেষ্টা কমিটির প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের পর চবিতে আয়োজিত হচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এজন্য আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। মাননীয় উপাচার্যকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই, তিনি এর প্রস্তাব পাওয়ার সাথে সাথে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আগত খেলোয়াড়সহ অতিথিদের সহযোগিতা এবং ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি চাকসু, শারীরিক শিক্ষা বিভাগসহ ক্রীড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি। চবি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব হাবিবুর রহমান জালাল স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সুর ও মূর্ছনায় মাননীয় উপাচার্য জাতীয় পতাকা, মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চাকসুর ভিপি বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আগত টিম ম্যানেজাররা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অলিম্পিক পতাকা এবং চবি টিম ম্যানেজার প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম চবি পতাকা উত্তোলন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এস.এম শফিক। এরপর অতিথিদের সাথে নিয়ে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল (ছাত্র-ছাত্রী) টুর্নামেন্ট এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
অনুষ্ঠানে অনুষদসমূহের ডিনবৃন্দ, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, হলের আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ, চাকসুর জিএস ও এজিএস, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদকসহ চাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ, হল সংসদসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বিপুল সংখ্যক ক্রীড়ামোদী শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চবি কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন।