আমরা পেইনফুল বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি: অর্থমন্ত্রী

আমরা পেইনফুল বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি: অর্থমন্ত্রী

কয়েক বছর ধরে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপের মুখে থাকা অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির বর্তমান চিত্র ‘বেদনাদায়ক’ বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমরা পেইনফুল বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, এটা সবাই জানে। আমরা ব্যাংকিং খাতের সমস্যা থেকে বের হতে চাই। এগুলোর সবই অর্থনীতির একটা অংশ। সকলে মিলেই এর সমাধান করব। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আছে তাতে।
বাণিজ্যিকভাবে চালু হলো ই-ঋণ: সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার

মঙ্গলবার (১২ মে) দেশের ৩৯ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির (বিএসআইসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন অর্থমন্ত্রী।

রাজধানীর একটি হোটেলে ওই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, ব্যাংক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাত এবং অর্থনীতিতে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান করতে জেপি মরগ্যান, বিশ্ব ব্যাংক, আইএফসির সাথে মিলেমিশে এই সরকার কাজ করছে। দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে, যা আমি বলতে চাই না।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় ধরনের সংস্কারের পদক্ষেপ আসছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, আমরা ক্যাপিটাল মার্কেট রিফর্মে যাচ্ছি। বড় ধরনের সংস্কার হবে। আমরা বিগওয়েতে সিরিয়াস রেগুলেশনে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি) করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিলের এই কোম্পানি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের একটি প্রোগ্রাম আছে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি। তাতে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের আওতায় ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অনেক কাজ করা যাবে আশা করি।

উদ্যোক্তা তহবিলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন আমির খসরু। তিনি বলেন, আমি কথা দিচ্ছি, ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে যে স্বচ্ছতা আমরা আনতে চাচ্ছি, তা এর মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের পরবর্তী ধাপে উন্নয়নে এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যা উদ্ভাবন, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

বিএসআইসিকে দেশীয় মূলধন উৎপাদনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

গভর্নর বলেন, এই বিনিয়োগের সুফল যেন প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণ পায়। কারণ প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ এর সুফল না পেলে একটা বড় অংশ বঞ্চিত থাকবে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল সফল না হওয়ায় আক্ষেপ করে গভর্নর বলেন, “ব্যাংকের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগে গঠিত হওয়ায় এবার স্টার্টআপ ফান্ড কাজ করবে বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি ৪৫০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে যাত্রা করলেও চলতি বছর শেষে তা ৭০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযেগিতায় বিএসআইসি গঠনে নেতৃত্ব দেয় বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ–এবিবি। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বিএসআইসির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন।

এবিবি চেয়ারম্যান ও বেসরকারি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বিএসআইসির প্রথম চেয়ারম্যান হয়েছেন।

পর্ষদের অন্য চার সদস্য হলেন মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও ইস্টার্ন ব্যাংকের (ইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদ।

প্রতি বছর শেয়ারধারক ৩৯টি ব্যাংক তাদের নিট মুনাফার ১ শতাংশ হারে মূলধন বাড়াবে।

মাসরুর আরেফিন বলেন, এটি শুধু একটি তহবিল নয়, এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের স্বপ্নকে পেশাদার ও সুশৃঙ্খল মূলধনের সঙ্গে যুক্ত করবে। ৩৯টি ব্যাংকের সমর্থনে আমরা স্থানীয় আস্থা ও বৈশ্বিক ভেঞ্চার মানদেণ্ডের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন করছি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email