রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সবজি, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজ, চিনি, ডাল ও সয়াবিন তেলের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। অসময়ের ভারী বৃষ্টি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়াকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। টানা মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শসার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বেগুন, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও পেঁপের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে।
বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
যাত্রাবাড়ীতে বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, আগে ৫০০ টাকায় যে বাজার হতো এখন সেখানে ৭০০ টাকাও যথেষ্ট হচ্ছে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ডিম ও মুরগির বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। এক মাস আগে প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৪৫ থেকে ৫২ টাকায় উঠেছে। এক ডজন ডিম এখন ১৫০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২১০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
মুদি পণ্যের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে, মোটা মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত পোলাও চাল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরকার সম্প্রতি বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন দরে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকায়। তবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পেঁয়াজ ও আদার দামও নতুন করে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা করে বাড়ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ পরিস্থিতি ও মৌসুমি প্রভাবের কারণেই দাম বাড়ছে।