কক্সবাজারের চকরিয়ায় অভিযান চলাকালে ডাকাত দলের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫ জনকে যাবজ্জীবন, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী রায় ঘোষণা করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নাসির উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, মোরশেদ আলম ও মো. নুরুল আমিন। তাদের মধ্যে মোরশেদ আলম পলাতক। বাকীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।”
২০২৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম দুই সন্ত্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় দুটি মামলায়ই এজাহারভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে ছয়জনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছিল সাতজনের নাম। দীর্ঘ চারমাস তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আজ রায় ঘোষিত হলো।