,

গ্রেট হলে আজ লি কিয়াং, কাল শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক-মাহ্দী আমিন

গ্রেট হলে আজ লি কিয়াং, কাল শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক-মাহ্দী আমিন

চীনের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে আজ প্রিমিয়ার লি কিয়াং এবং আগামীকাল রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায়) সেন্ট্রাল বেইজিংয়ের ‘দিয়াওইউতাই হোটেল’-এর ‘ফাং ফেই হল’-এ অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। তিন পর্বে বিভক্ত এই সফরের প্রথম পর্বে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন। সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আমন্ত্রণে চীনের দালিয়ানে যান এবং “অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস” সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাতটি দেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মন্টিনিগ্রো, মঙ্গোলিয়া, গিনি ও কাজাখস্তান। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সেখানে সরকার গঠনের পর গত চার মাসে জলবায়ু খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সুধীবৃন্দের প্রশংসা অর্জন করে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, সফরের তৃতীয় পর্বে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বেইজিংয়ে পৌঁছান। মালয়েশিয়া ও দালিয়ানের ধারাবাহিকতায় বেইজিংয়েও তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান, বর্ণাঢ্য লালগালিচা সংবর্ধনা এবং আন্তরিক আতিথেয়তার মাধ্যমে বরণ করা হয়। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে দাওতি স্টেট গেস্টহাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি মাত্র ২৫ জন সফরসঙ্গী নিয়ে সফর করছেন, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ১১ জন রয়েছেন।

তিনি জানান, চীনা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা, বাংলাদেশে-চীন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। চীনা মন্ত্রী এ খাতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ সকালে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর যৌথ উদ্যোগে “ইনভেস্ট বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চীনের ৮০টি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।