চট্টগ্রামের ইপিজেড-সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নয়ারহাট খালে স্লুইসগেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ লক্ষ্যে সিডিএর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন সম্ভাব্য নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় পূর্বে নয়ারহাট খালের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছিল সিডিএ। তবে খালের মুখে স্লুইসগেট না থাকায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি খালে প্রবেশ করে এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফলে হালিশহর, ইপিজেড ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।এর আগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এ এলাকায় একটি স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নয়ারহাট খাল ও ইপিজেড-সল্টগোলা ক্রসিং সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করে স্লুইসগেট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সংসদীয় এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অগ্রসর হওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরলে তিনি দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নয়ারহাট খালে স্লুইসগেট নির্মাণ করে দেব। তবে আপনাদেরও আমাকে একটি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে—যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না, নালা-খাল দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। একটি পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”তার এ আহ্বানে উপস্থিত জনসাধারণ সম্মতি প্রকাশ করেন এবং করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।