প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন গতকালই এই সাক্ষাৎকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। আজকের এই বৈঠককে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে সফরের তৃতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চীনের প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াং-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে ২টি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যা দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে গত সোমবার (২২ জুন) রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান তিনি। দালিয়ানে দুদিনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে গত বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানী বেইজিংয়ে পা রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের শেষ দিনে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথেও গ্রেট হলে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এরপর তিনি চীনের ঐতিহাসিক জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
টানা চার দিনের অত্যন্ত ব্যস্ত ও সফল এই সফর শেষে আজ বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরে ২৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা দলের পক্ষে রয়েছেন হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন।