ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় সামাজিক সংগঠন ‘সুরক্ষা’ শনিবার নগরীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও নাগরিক সভার আয়োজন করে। চসিক পাবলিক লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা প্রচলিত বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ‘বিটিআই’ (BTI) প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, উন্নতমানের লার্ভিসাইড প্রয়োগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক সাফল্য এসেছে। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, এসির ট্রে, ফুলের টব ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।”
তিনি বলেন, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে প্রায় ৯ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে ২ হাজার ৭৪৮ জনে এবং মৃত্যু ১৬ জনে নেমে আসে। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হয় ২ হাজার ৬২২ জন এবং মৃত্যু হয় ৮ জনের। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০৯ জনে; এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ অর্জন ধরে রাখতে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মেয়র আরও বলেন, “নগরবাসী যদি নিজ নিজ আঙিনা ও বাসাবাড়িতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করেন, তাহলে এককভাবে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব নয়। কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘সুরক্ষা’র চেয়ারম্যান ডা. এম এম তৈমুর হাসান। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত হোসেন শাহীন হায়াত ও ডা. লামিয়া ইবতেসাম ওসমান। স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুরক্ষার অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মন্ডল ও আরমান আলী। তারা বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। আন্তর্জাতিক মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নাগরিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করাই ‘সুরক্ষা’র মূল লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এনভায়রনমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সেলিম উদ্দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
এছাড়া বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন (রানা), সিএমইউজে সভাপতি ও বাসস চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোহাম্মাদ শাহনওয়াজ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম সিটি ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ, জেড এম সাজ্জাদুল ইসলাম, হাজী সাইফুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার রাসুদুল ইসলাম রাসুদ, জুয়েল মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদ ইমাম খান সারাত, অনিক খানসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে অতিথিবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী এক মাস চট্টগ্রামের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চসিক ও ‘সুরক্ষা’র যৌথ উদ্যোগে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।