চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় চাচাতো ভাইয়ের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার চার দিন পর মোহাম্মদ আবদুল মন্নান সওদাগর (৩৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জানিপাথর বাজারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে চাচাতো ভাই শাহজাহান কাঠের গুঁড়ি/লাঠিসদৃশ বস্তু দিয়ে মন্নানের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর অভিযুক্ত শাহজাহান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা আহত মন্নানকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নগরীর বেসরকারি সাজিনাজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত আবদুল মন্নান সওদাগর হলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ কবির আহাম্মদের ছেলে এবং মোহাম্মদ লোকমান সওদাগরের ভাই। অভিযুক্ত শাহজাহান একই এলাকার সালেহ আহমদের ছেলে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "হামলায় আহত একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জেনেছি। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হলদিয়া ইউনিয়নে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তীতা গাজীপাড়ায় প্রকৌশলী মুহাম্মদ নুরুল আলম বকুল নিহত হন। একই বছরের ১৫ মার্চ প্রতিপক্ষের হামলায় যুবদলকর্মী কমর উদ্দিন জিতুও নিহত হন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে হলদিয়া ইউনিয়নে এ নিয়ে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে রাউজান উপজেলায় অন্তত ৩০টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে ১৮টি হত্যাকাণ্ড।